কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পচামাদিয়া হাই স্কুল জুলাপাড়া এলাকায় এক টুকরো রহস্যময় কাপড়কে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, কাপড়টি কাফনের কাপড় হতে পারে। আবার কেউ কেউ এটিকে জাদুটোনা বা কুফরি কালামের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও সন্দেহ করছেন।
জানা যায়, এলাকার একটি পানি পড়ার আস্তানার পাশে শনিবার গভীর রাতে কে বা কারা আরবি হরফে লেখা একটি কাপড়ের টুকরো ফেলে রেখে যায়। রাতের অন্ধকারে রেখে যাওয়া ওই কাপড়ের বিষয়টি কেউ টের না পেলেও রবিবার (৭ জুন) সকালে স্থানীয়দের নজরে আসে।
সকালে কাপড়টি দেখতে পেয়ে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা ও সমালোচনা। কেউ বলছেন এটি কোনো তাবিজ-কবজ বা জাদুটোনার অংশ, আবার কেউ রহস্যময় অন্য কোনো ঘটনার ইঙ্গিত খুঁজছেন।
স্থানীয়দের দাবি, কাপড়টির ওপর আরবি ভাষার লেখা ও বিশেষ ধরনের নকশা থাকায় এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা সন্দেহের জন্ম নেয়। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এক ধরনের রহস্যময় পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি কাপড় দেখতে পান, যাতে আরবি কিংবা অন্য কোনো ভাষার লেখা ও নকশা ছিল। তার ধারণা অনুযায়ী, সেটি কাফনের কাপড় হতে পারে। পরে যোহরের নামাজের পর তিনি পুনরায় সেখানে গিয়ে দেখেন, স্থানীয়রা কাপড়টি পুড়িয়ে ফেলেছে।
তবে রহস্যময় এই ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো তথ্য পৌঁছেনি। এ প্রসঙ্গে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর আমরা পাইনি।
রাতের আঁধারে কে বা কারা কাপড়টি সেখানে রেখে গেছে, কেনই বা ফেলে রাখা হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। ফলে দৌলতপুরের এই রহস্যময় ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের কৌতূহল ও আলোচনা থামছেই না।
