মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে নতুন বিতর্ক: ছাত্রলীগের মিছিলে ‘নিরাপত্তা’ চাওয়া, আশ্বাস দেন এনসিপি নেতা

সমতল মাতৃভূমি ডেস্ক
জুন ৮, ২০২৬ ১১:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে একটি ফাঁস হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতা মিছিল আয়োজনের বিষয়ে এনসিপির এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং মিছিলের সময় ‘তথ্য সহযোগিতা’ ও ‘নিরাপত্তা’ চাচ্ছেন। অপর প্রান্ত থেকে তাকে আশ্বস্ত করতেও শোনা যায়।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে কথোপকথনটি হয় এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদের সঙ্গে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্ক।

জানা যায়, গত ১৪ মে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি পুনর্গঠন করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান হুজ্জাতুল ইসলাম। তবে পরে কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে কয়েকজন নেতার সঙ্গে তিনিও পদত্যাগ করেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন, বলেন— তিনি নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ছামদানি জনির সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের পরামর্শে নির্ধারিত দিনের মিছিল স্থগিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে মিছিলের তারিখ নির্ধারণ হলে আগাম জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর জবাবে হুজ্জাতুল ইসলাম বলেন, “আমি যেভাবে ঈমানদারির সঙ্গে আমানতদারি রক্ষা করছি, আশা করি আপনারাও সেটি রক্ষা করবেন।”

কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বলেন, “যেদিন ছাত্রলীগের মিছিল হবে, তার আগের দিন জানিয়ে দেব। আপনি একটু ইনফরমেশন দেবেন এবং একটু প্রটেক্ট করবেন। জবাবে হুজ্জাতুল ইসলামকে “ইনশাআল্লাহ, ইনশাআল্লাহ” বলতে শোনা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে রোববার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তায় পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেন হুজ্জাতুল ইসলাম।

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে তার কোনো সাংগঠনিক যোগাযোগ নেই। বরং একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবে তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন।

হুজ্জাতুল ইসলাম বলেন,  আমার জীবন বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমার ওপর বড় ধরনের হামলা কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। যে নম্বর থেকে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, সেই সূত্রের সঙ্গে ভিডিওটি প্রচারকারী ফেসবুক আইডির বেশ কিছু মিল খুঁজে পেয়েছি।

তিনি আরও জানান, প্রায় ২৫ দিন আগের ওই ভিডিও এখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের ‘এজেন্ট’ তকমা লাগানোর অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন।

সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের কাছেও একই ব্যাখ্যা দেন তিনি। তবে ভাইরাল হওয়া কথোপকথন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখনো থামেনি। ভিডিওটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট, কথোপকথনের উদ্দেশ্য এবং এর পেছনের বাস্তবতা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।