সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের বার্তা: ২০২৭ সাল থেকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বিষয়, নিয়োগে আসছে এআইভিত্তিক ভাইভা

স্টাফ রিপোর্টার
জুন ৮, ২০২৬ ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭) থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বিষয় চালু করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান। জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষাক্রমে নতুন চার বিষয়

শিক্ষামন্ত্রী জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী বছর শিক্ষাক্রমে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হবে। চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আরও দুটি বাধ্যতামূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, “শিক্ষাকে আরও দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী এবং সময়োপযোগী করতে এই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও প্রস্তুতি শেষে ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিয়োগ পরীক্ষায় আসছে এআইভিত্তিক ভাইভা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এআইভিত্তিক মৌখিক পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মন্ত্রী জানান, প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ৫৩ হাজার প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে সারাদেশে শূন্য পদের সংখ্যা ১১ হাজার ১৫০।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছি, যেখানে পক্ষপাত, প্রভাব বা অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকবে না। প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করা হবে।

তবে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন না হলে প্রচলিত পদ্ধতিতেই ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষা খাতের দুর্নীতি নিয়ে আসছে শ্বেতপত্র

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

তার ভাষ্য, অতীতের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রস্তুত করা হবে। ভবিষ্যতের সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য ১,৬০০ কোটি টাকা

সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবসর সুবিধা না পাওয়া শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থসংকটের কারণে বহু শিক্ষক বছরের পর বছর প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী জুন বা জুলাইয়ের মধ্যেই অর্থ বিতরণের কাজ শুরু হবে।

সময়মতো বই পৌঁছে দিতে জোর প্রস্তুতি

আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দিতে মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান সচিব আব্দুল খালেক।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বইয়ের ছাপার কাজের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। ডিসেম্বরেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে জানুয়ারির শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ

দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানান সচিব।

এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণে নতুন ভবন নির্মাণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের জন্য বৃহৎ পরিসরের প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।