লোকজ ঐতিহ্য থেকে সমকালীন প্রতিবাদ—নাট্যোৎসবে জমে উঠছে সাংস্কৃতিক অঙ্গন। নতুন নাটকের উৎসবে অতিথিরা। ছবি:সংগৃহীত
নতুন ভাবনা, নতুন ভাষা আর সময়ের বাস্তবতাকে মঞ্চে তুলে ধরার প্রত্যয়ে পর্দা উঠেছে ‘নতুন নাটকের উৎসব-২০২৬’-এর। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুক্রবার (১২ জুন) থেকে শুরু হওয়া এই আট দিনব্যাপী উৎসব চলবে আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত।
‘নতুন নাটক, নতুন সময়—মঞ্চে জাগুক মানুষের কথা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ উৎসবের লক্ষ্য দেশীয় নাট্যসংস্কৃতির বিকাশ, প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণ। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হবে নাটক, সংগীত ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন।
উৎসবের উদ্বোধন হয় জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের লবিতে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন), গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ এবং নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী।
বক্তারা বলেন, নাটক শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার। সামাজিক অচলায়তন, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের চেতনা জাগিয়ে তুলতেই এই আয়োজন।
নাটকের গানে উৎসবের শুরু
উদ্বোধনের পর পরিবেশিত হয় ‘বাংলা নাটকের গান’। মানিকগঞ্জ থেকে আগত আলেয়া বেগম ও আলমাস সরকারের দল তাদের পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করে।
উদ্বোধনী মঞ্চে ‘চোরের নাম চরণদাস’
উৎসবের প্রথম দিনে মঞ্চস্থ হয় দিনাজপুর নাট্য সমিতির প্রযোজনা ‘চোরের নাম চরণদাস’, নির্দেশনায় ছিলেন নয়ন বার্টেল।
বিজয়দান দেথার কালজয়ী গল্প এবং হাবীব তানভীরের বিখ্যাত নাট্যধারাকে নতুন আঙ্গিকে রূপ দিয়েছেন নির্মাতারা। ছত্তিশগড়ের পটভূমি বদলে নাটকটি স্থান পেয়েছে দিনাজপুর-রংপুর-নীলফামারী-পঞ্চগড়ের তেভাগা অঞ্চলে। লোকজ পালাটিয়া গান, মুখানাচ এবং আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারে নাটকটি পেয়েছে এক স্বতন্ত্র রূপ।
শোষণ, বঞ্চনা, বিদ্রোহ ও মানুষের অন্তর্গত সত্যকে লোকনাট্যের আবহে তুলে ধরা এই প্রযোজনা দর্শকদের কাছে হয়ে উঠেছে সমকালীন সমাজের এক শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি।
আগামীকাল মঞ্চে পাহাড়ি ভাষার নাটক ‘রিনা প্লুং’
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে, ১৩ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে ‘রিনা প্লুং’। বান্দরবানের ইয়াং বংহুং থিয়েটার তাদের নিজস্ব ভাষায় নাটকটি পরিবেশন করবে। নির্দেশনায় রয়েছেন সিংয়ং ম্রো।
একইসঙ্গে সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলা নাটকের গান’, যেখানে অংশ নেবে পদাতিক নাট্য সংসদ টিএসসি।
তরুণ নির্দেশকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা
উৎসবকে ঘিরে তরুণ নাট্যনির্দেশকদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা। আগামী ১৫ থেকে ১৯ জুন জাতীয় নাট্যশালার ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল কালচারাল আর্কাইভ কক্ষে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।
