গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঠিকাদারি কার্যক্রম, কমিশন বাণিজ্য, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোসহ নানা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
তবে অভিযোগ প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান তদন্ত অগ্রগতি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি দপ্তরে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালিত হলে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে উঠে আসতে পারত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নীরবতা বজায় থাকায় জনমনে নানা ধরনের প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন—অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার পরিবর্তে নীরবতা কেন? কোনো অদৃশ্য প্রভাব কি তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে, নাকি অভিযোগগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই উপেক্ষিত হচ্ছে?
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হলে দুটি পথই গ্রহণযোগ্য হতে পারে। অভিযোগ অসত্য হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁকে দায়মুক্ত ঘোষণা করা উচিত, আর অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কোনোটিই না হওয়ায় বিতর্ক আরও গভীর হচ্ছে এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করা। সেই প্রেক্ষাপটে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকা সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এ অবস্থায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের প্রতি সংশ্লিষ্টদের জোর দাবি—পূর্বে প্রকাশিত অভিযোগগুলো অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের আওতায় আনা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান—উভয়ের অবস্থান স্পষ্ট হয়।
কারণ, নীরবতা কখনোই জবাবদিহির বিকল্প হতে পারে না; বরং দীর্ঘ নীরবতা জনমনে সন্দেহ, অবিশ্বাস ও নানা প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তোলে।
এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে কয়েকটি প্রশ্ন—নীরবতার ভাষা কি দায়মুক্তির বার্তা দেয়? নাকি নীরবতা কেবল প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতিফলন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে আগ্রহী সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা। তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত করে তার ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
