রবিবার, ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ক্ষমতার লোভ শিখিয়েছে’ — হোসেন জিল্লুর রহমানের তীব্র সমালোচনা

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ২, ২০২৬ ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিপুল জনপ্রত্যাশা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার তিনটি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তার ভাষায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে ব্যর্থ হয়েছে; বরং ‘ক্ষমতার লোভটাই’ তাদের সামনে বড় প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরেছে।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় তিনটি ব্যর্থতা ছিল, ×সরকার পরিচালনায় পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীলতা, তরুণদের ভুল দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নিজেদের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচিকেই শেষ পর্যন্ত কার্যত পরিত্যাগ করা।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম সোয়াস অ্যান্টি-করাপশন এভিডেন্স। এতে সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক খান ও অধ্যাপক পল্লবী রায় এক-এগারো এবং জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

‘তরুণদের ভুল পথে পরিচালিত করেছে সরকার’

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতি একধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ইউনূস সরকার তাদের যথাযথ দিকনির্দেশনা দিতে পারেনি। ফলে শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্বশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

তার মতে, সমাজে শিক্ষার গুরুত্বও ক্রমশ কমে যাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থান যে রাষ্ট্রসংস্কারের প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছিল, সরকারের আমলাতান্ত্রিক আপস সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দেয়।

‘সাহসী সংস্কারের বদলে নিরাপদ পথ বেছে নেয় সরকার’

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বুঝতে পারেনি কোন সময়ে সাহসী ও মৌলিক সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। শুরু থেকেই তারা রক্ষণশীল ও নিরাপদ পথ বেছে নেয়। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভাঙার পরিবর্তে একই ধরনের আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে আগের ব্যবস্থাই কার্যত বহাল থাকে।

তিনি আরও বলেন, সরকার মুখে সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে সেই উদ্যোগে প্রয়োজনীয় আন্তরিকতা ছিল না। এ কারণে রাষ্ট্রসংস্কারের যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

‘সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ডাস্টবিনে গেছে’

হোসেন জিল্লুর রহমানের অভিযোগ, ইউনূস সরকার ‘সংস্কার’ শব্দটিকে আলোচনায় এনেছিল ঠিকই, কিন্তু নিজেদের গঠিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর প্রতিই গুরুত্ব দেয়নি।

তার ভাষায়, তারা নিজেদের তৈরি করা সংস্কার কমিশনের সুপারিশই দেখেনি। ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তারা মূলত একটা ‘রিফর্ম গেম’ খেলেছে।

উল্লেখ্য ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনের অবসানের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সরকার বিদায় নেয়। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।