ছবি : সংগৃহীত
অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি বা অন্যকে দিয়ে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে চার প্রার্থীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় এজাহার দায়ের করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রোববার শাহবাগ থানায় এ এজাহার দায়ের করা হয়। সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৭ জনের মধ্য থেকে গত ২৪, ২৫, ২৭ ও ২৮ জুন মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই মৌখিক পরীক্ষায় চারজন প্রার্থী নিজে উপস্থিত না হয়ে তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে পাঠান।
অভিযুক্ত চারজন হলেন— টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আবদুল আলিম, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, গত ৬ জুলাই প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ২০ জনকে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সচিবালয়ে যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট চার প্রার্থীর পরিবর্তে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের উপস্থিত হতে বলা হলে তাদের চেহারা ও পরিচয়ের সঙ্গে রেকর্ডে থাকা তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেন যে, তারা নিজেরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি; বরং অন্যদের দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে চাকরিতে যোগ দিতে তারা নিজেরাই সচিবালয়ে উপস্থিত হন। সেখানেই পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় এজাহার দায়ের করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এজাহারে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
