রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিআরটিসিতে পদায়ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে জামিল হোসেন: রাজনৈতিক প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ পদ ও বদলি নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২১, ২০২৬ ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর ডিপো ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. জামিল হোসেনকে ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদে দায়িত্ব পালন, প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দাবি, বিআরটিসির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কিছু কর্মকর্তা বারবার গুরুত্বপূর্ণ ও তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী ইউনিটে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বৈষম্য ও অসন্তোষের জন্ম দিচ্ছে।

অতীত দায়িত্ব পালন ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে অভিযোগ

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে গাবতলী বিআরটিসি বাস ডিপোতে দায়িত্ব পালনকালে মো. জামিল হোসেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের দাবি, ওই সময়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে নিজস্ব প্রভাব বলয় গড়ে তুলেছিলেন।

কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিভিন্ন সময়েও তিনি প্রশাসনিক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থেকেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন কোনো তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের পর্যবেক্ষণ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বদলি ঘিরে নতুন করে আলোচনা

সম্প্রতি বিআরটিসির জারি করা এক বদলি আদেশে জামিল হোসেনকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়। এই পদায়নের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের প্রশ্ন—কোন বিবেচনায় এ পদায়ন করা হয়েছে এবং পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব পেয়েছে?

তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ ডিপো ও ইউনিটে পদায়নের ক্ষেত্রে সবসময় একই ধরনের কর্মকর্তা সুবিধা পাচ্ছেন, যা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কর্মপরিবেশ ও পেশাগত ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

‘গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক’ পদে বারবার দায়িত্ব পালনের অভিযোগ

বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অতীতে বিভিন্ন সময়ে মো. জামিল হোসেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তুলনামূলকভাবে লাভজনক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সমালোচকদের প্রশ্ন, এসব পদায়ন কেবল প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে হয়েছে, নাকি এর পেছনে রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো প্রভাব কাজ করেছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে একই ব্যক্তিকে বারবার প্রভাবশালী পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা থাকা জরুরি। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

ব্যক্তিগত পরিচয় ও গোপনীয়তার বিষয়

ব্যক্তিগত পরিচয় সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, মো. জামিল হোসেন গোপালগঞ্জ জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, তার ব্যক্তিগত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা অন্যান্য ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিপন্থী হতে পারে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষ ও জবাবদিহিতার দাবি

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিসির একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক পদায়ন ও বদলি কার্যক্রম নিয়ে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের মতে, পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নীতিনির্ভর এবং জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন।

তারা অভিযোগ করেন, পদায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যথেষ্ট তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, যার ফলে নানা গুঞ্জন ও প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তারা স্বাধীন তদন্ত, প্রশাসনিক পর্যালোচনা এবং স্পষ্ট নীতিমালা অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন।

বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা

এ বিষয়ে মো. জামিল হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে এবং সংবাদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা তথ্যভিত্তিক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের মুখোমুখি ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন না করাও গণমাধ্যম ও প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব।

বিশ্লেষকদের মতে, বিআরটিসির সাম্প্রতিক বদলি, পদায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে শুধু বিতর্কের অবসানই হবে না, বরং রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সংস্থার প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের আস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে।

বর্তমানে ডিপো ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. জামিল হোসেনকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগ, তার অতীত ভূমিকা, সাম্প্রতিক পদায়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এ বিষয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে কি না এবং বিতর্ক নিরসনে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ