রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এলটিএম বাদ, ওটিএমে ‘অস্বাভাবিক প্রীতি’, দেড় মাসে ৩৯ টেন্ডার নিয়ে তোলপাড়,গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে ‘টেন্ডার বাণিজ্যের’ অভিযোগ

আবদুর রহমান
জুন ১৯, ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

* জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ওটিএম দরপত্রের বন্যা, প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা

* ‘রেট ফিক্সিং’ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে উত্তপ্ত গণপূর্তের অন্দরমহল

* ১০ শতাংশ কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ে না—এমন অভিযোগে তদন্তের দাবি জোরালো

ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। এলটিএম (Limited Tendering Method) পদ্ধতির পরিবর্তে অভিনব কায়দায় ওটিএম (Open Tendering Method) পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক দরপত্র আহ্বান করে বিশাল ‘টেন্ডার বাণিজ্য’ পরিচালনা এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাধারণ নিয়ম, প্রশাসনিক ভারসাম্য ও স্বচ্ছতা নীতিকে পাশ কাটিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রায় ৩৯টি ওটিএম দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শুধু ঠিকাদার মহল নয়, খোদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র গুঞ্জন ও ক্ষোভ।

দেড় মাসে ৩৯টি ওটিএম দরপত্র: ‘রেকর্ড’ নাকি প্রশ্নবিদ্ধ তৎপরতা?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, ২৭ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি—এই তিন দিনেই মূলত ওটিএম দরপত্রের বন্যা বইয়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখযোগ্য ৩৯টি টেন্ডার আইডির মধ্যে রয়েছে—

1062648, 1062651, 1062652, 1062649, 1062654, 1062653, 1056143, 1056144, 1060358, 1062671, 1062647, 1062396, 1056147, 1062385, 1069899, 1071271, 1071766, 1069900, 1069901, 1068865, 1070729, 1071778, 1071779, 1071780, 1069462, 1068870, 1056141, 1068864, 1068901, 1057944, 1057946, 1068860, 1068896, 1069173, 1062672, 1068863, 1068859, 1068851 এবং 1057813।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—ঢাকা গণপূর্তের অন্যান্য সিভিল বিভাগ যখন একই সময়ে এ ধরনের ব্যাপক ওটিএম আহ্বান করেনি, তখন আরবরিকালচার বিভাগের এই অস্বাভাবিক ওটিএম-নির্ভরতা কি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো আর্থিক সমীকরণ?

‘উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা’ নাকি পর্দার আড়ালে সমঝোতা?

অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নামে ওটিএম পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও পর্দার আড়ালে নির্দিষ্ট একটি চক্রের সঙ্গে সমঝোতা, রেট ফিক্সিং এবং দরপত্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, বিপুল সংখ্যক টেন্ডারের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া এবং এর বিনিময়ে বড় অঙ্কের কমিশন আদায় করা। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

‘১০ শতাংশ কমিশন ছাড়া সই হয় না ফাইল’—বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকল্প তদারকি, ফাইল প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রেও নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ঠিকাদার ও বিভাগীয় সূত্রগুলোর দাবি—

আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগে প্রায় প্রতিটি ফাইলের বিপরীতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়। এই নির্ধারিত অংশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করা হয় না।

অভিযোগটি সত্য হলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং জনগণের করের টাকার যথাযথ ব্যবহারের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

ব্যয় বাড়ছে, গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি বড় প্রকল্পগুলোতে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ থাকে। সেখানে কমিশনভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় বৃদ্ধি, নিম্নমানের কাজ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় যদি প্রতিযোগিতার পরিবর্তে প্রভাব, সমঝোতা ও কমিশন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা দুটোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তদন্তের দাবি জোরালো

বাংলাদেশের আইন ও সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরকারি ক্ষমতা বা জনসম্পদ ব্যবহার করতে পারেন না।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর উচিত উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা। টেন্ডার আইডি, কার্যাদেশ, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, দরমূল্য এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে আনা প্রয়োজন।

এখন যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে

কেন স্বল্প সময়ে ৩৯টি ওটিএম দরপত্র আহ্বান করা হলো?

অন্যান্য বিভাগ একই পথে না হাঁটলেও আরবরিকালচার বিভাগে ওটিএমের এত ব্যাপক ব্যবহার কেন?

রেট ফিক্সিং ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ কতটা সত্য?

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কারা প্রকৃত সুবিধাভোগী?

অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কি হবে?

সব মিলিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রশ্ন নয়; এটি সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থ ব্যবহারের ওপর আস্থা নিয়েও বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগগুলো সত্য নাকি ভিত্তিহীন—তার উত্তর মিলতে পারে কেবল স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে।

এসব অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল কালাম আজাদ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন কল গ্রহণ করেন। এজন্য তার বক্তব্য প্রকাশ করা গেল না। বিস্তারিত থাকবে পরের সংখ্যায়…………..

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ