বাণিজ্য, শ্রমবাজার ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্তের প্রত্যাশায় মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। দু’দিনের এ সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার দুপুর পৌনে তিনটায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শনিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ছয় দিনের কর্মসূচি তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, সফরের দ্বিতীয় দিনে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উভয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব। তিনি বলেন, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের আসিয়ান ‘ডায়ালগ পার্টনার’ এবং ‘রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসেপ)’-এ যোগদানের আবেদন জোরালোভাবে উপস্থাপন করে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনা করা হবে।
মালয়েশিয়ার দুই দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন। প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী, তিনি ২২ জুন দুপুরে কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন।
আগামী ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে সেদিন বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিনিয়োগ, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এই সফরকে ঘিরে।
