শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যমজ সন্তান সামলে জজ হলেন শারমিন

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংসার, মাতৃত্ব আর পড়াশোনার লড়াই পেরিয়ে ১৮তম বিজেএসে মেধাক্রমে ২৪তম। শারমিন খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

সংসার, স্বামী ও যমজ দুই সন্তানকে সামলে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় মেধাক্রমে ২৪তম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন খাতুন। নানা দায়িত্ব ও ব্যস্ততার মধ্যেও অধ্যবসায় ধরে রেখে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

২০১৬ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ২০২১ সালে যমজ সন্তানের মা হন শারমিন। সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুই সন্তানকে সামলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছেন তিনি। এমনকি অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে রেখে বিজেএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এই অদম্য শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারা দেশ থেকে ২০০ প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন বিভাগের ১৪ জন, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

তবে শারমিন খাতুনের সাফল্যের গল্পটি যেন একটু আলাদা। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা শারমিনের পথচলা শুধু পরীক্ষা, বই আর পড়ার টেবিল ঘিরে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংসার, মাতৃত্ব এবং নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার দীর্ঘ লড়াই।

২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার পর ২০১৬ সালে বিয়ে হয় শারমিনের। এরপর ২০২১ সালে তিনি যমজ সন্তানের মা হন। একদিকে সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে দুই সন্তানকে সামলানো—সবকিছুর মধ্যেই নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটাকে ধরে রাখেন তিনি।

বিজেএসের প্রস্তুতির শুরুতেও সন্তান ও সংসার সামলে পড়াশোনার জন্য আলাদা সময় বের করা তার জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু মনের জেদ তাকে থামতে দেয়নি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রস্তুতি চালিয়ে যান তিনি। এমনকি অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে রেখে বিজেএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

নিজের সাফল্যের পেছনে স্বামী ও পরিবারের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে শারমিন খাতুন বলেন, ‘আমার এই দীর্ঘ পথচলায় আমার স্বামী আশাদুল হক ছায়াসঙ্গী হিসেবে সবসময় পাশে থেকেছেন। উচ্চশিক্ষার প্রতি আমার আগ্রহকে সবসময়ই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির মানুষজন উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই স্বপ্ন পূরণের পথে শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব ও পরিবারকেও পাশে পেয়েছি। অনার্স-মাস্টার্সের গণ্ডি পেরিয়ে অবশেষে বসলাম বিজেএস পরীক্ষায়। শুরুতে বাচ্চা ও সংসার সামলে বিজেএসের প্রস্তুতির জন্য সময় বের করতে পারিনি। কিন্তু মনের জেদটা ছিল তীব্র। অবশেষে ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলাম।’

শারমিনের এই সাফল্যে আনন্দিত আইন বিভাগের শিক্ষকরা। আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো ফল করছে, এবার আরও ভালো করেছে। এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। যারা জুডিশিয়ারিকে পেশা হিসেবে নিতে চায়, তাদের গাইডলাইন দেওয়া ও ভিত্তি শক্ত করতে আমরা কাজ করব। জুডিশিয়ারি একটি মহৎ পেশা। আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

ইবির ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে (বিজেএস) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন— আইন বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম; ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ ইসলাম ও শফিক শোভন; ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাদিয়া আফরিন; ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হুমায়ন কবির ও সালমা খাতুন; ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শারমীন খাতুন, শাকির আলম, মেহবুবা মোহিনী, মো. রফিকুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন ও ইয়াসমিন খাতুন; ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লিখন এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন।

এ ছাড়া ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম ও এ এইচ হাবিব, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নুসরাত জাহান তানী এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রুকনুজ্জামান রায়হান এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।