প্রতীকী ছবি
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জমিজমা ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সাবেক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মানিক মিয়া (৪০)-কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তির নথিতে ঘটনাটিকে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মানিক মিয়াকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত মানিক মিয়া পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি এবং পেশায় পালকি গাড়ির চালক ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ
নিহতের ছোট ভাই সুখ মিয়া দাবি করেন, অভিযুক্ত সুয়েব মুন্সির পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এছাড়া অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের পরিবারকে বিভিন্ন সময় এলাকা ছেড়ে থাকতে হয়েছে। এর আগেও সুয়েব মুন্সি তাদের পরিবারের সদস্যদের মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে মানিক মিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসে থাকাকালে সুয়েব মুন্সি ১০ থেকে ১৫ জন সহযোগীকে নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হওয়ার পর হামলাকারীরা তাকে সতিশা রোড এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার স্ত্রী সেলিনার কাছে রেখে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের নথি নিয়ে প্রশ্ন
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির সময় প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটিকে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা যায়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবায়দুল হক বলেন, নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন যে মানিক মিয়াকে মারধর করা হয়েছিল। তবে ভর্তির কাগজে কেন ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ লেখা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তির নথিতে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখ থাকলেও নিহতের পরিবার হাসপাতাল পরিচালকের কাছে আবেদন করলে তদন্ত সাপেক্ষে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।
অভিযুক্তের পাল্টা বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুয়েব মুন্সি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার বা তার সহযোগীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি, নিহত ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং মাদক ব্যবসার অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
দলীয় প্রতিক্রিয়া
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামসুল হক বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। বিষয়টি শুনেছেন, তবে বিস্তারিত তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে চান না।
পুলিশের বক্তব্য
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতের পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মানিক মিয়ার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
