সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীতে পুলিশের বিস্তার পরিকল্পনা, ঢাকায় আসছে আরও ৪ নতুন থানা, বাড়ছে ফাঁড়ি-নিরাপত্তা নজরদারি

স্টাফ রিপোর্টার
মে ৮, ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে এবং জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে ঢাকাজুড়ে নতুন করে চারটি থানা ও একাধিক পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নগরজুড়ে বাড়তে থাকা জনসংখ্যা, অপরাধপ্রবণ এলাকা ও নতুন আবাসন কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে নেওয়া হচ্ছে এই বড় উদ্যোগ।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর খিলক্ষেতের তিনশ’ ফুট এলাকায় ‘পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি–১’-এ নতুন খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফাঁড়িটির উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, সম্প্রতি কারওয়ান বাজারে একটি পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য চাঁদাবাজি ও নানা অপরাধ দমন। এর ধারাবাহিকতায় খিলক্ষেতে নতুন ফাঁড়ি চালু হলো, আর রাজধানীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন ফাঁড়ি স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, রায়েরবাজারে নতুন থানার প্রস্তাব বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি মোহাম্মদপুর, আদাবর ও হাজারীবাগের কিছু অংশ নিয়ে আরেকটি থানা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভাটারা, বাড্ডা ও খিলক্ষেতের অংশবিশেষ নিয়ে ‘বসুন্ধরা থানা’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া খিলগাঁও এলাকায় নতুন থানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পূর্বাচলে পুলিশিং কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় শুরু হলে সেখানে চারটি থানা ও ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

মো. সরওয়ার আরও বলেন, মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় আবাসন সুবিধা পাওয়া গেলে দ্রুত নতুন পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হবে। বাড্ডা থেকে বেরাইদ দূরবর্তী হওয়ায় সেখানে ফাঁড়ি স্থাপনের কাজ এগোচ্ছে। এছাড়া গেন্ডারিয়া ও ওয়ারীর ঘুন্টিঘর এলাকাতেও নতুন ফাঁড়ি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে অনুমোদিত কয়েকটি ফাঁড়িকে পুনর্বিন্যাস করে জনবহুল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবেই চালু হলো খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি।

তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে পুলিশের দিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সে সময় পুলিশ হয়তো বিশেষ উদ্দেশ্যে কাজ করেছে। এখন পুলিশ জনগণের সেবায় কাজ করছে। দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমান পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

একই সঙ্গে ডিএমপির সদস্যদের আবাসন সুবিধা বাড়াতে নতুন ব্যারাক, পুলিশ লাইন্স ও প্রশিক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর ও তিনশ’ ফিট এক্সপ্রেসওয়েকে ঘিরে দ্রুত বাড়ছে জনসংখ্যা, যানবাহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম। খিলক্ষেত থানার আওতাধীন বরুয়া, ডুমনি, পাতিরা ও তলনাসহ আশপাশের এলাকায় দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, এসব এলাকা মূল থানা থেকে দূরে হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া জমি দখল, মাদক, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক পুলিশি উপস্থিতি জরুরি হয়ে উঠেছে।

পুলিশ প্রধান আরও বলেন, নতুন এই পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে জনগণ দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবে এবং প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশিং আরও জোরদার হবে। আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।