বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লোকজ ঐতিহ্যের রঙে জাগরণ: বৈশাখী শোভাযাত্রায় প্রত্যয়ের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ

তাবাসসুম স্নেহা
এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ৩:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রভাতে, সূর্যের আলো ফোটার আগেই যেন জেগে উঠেছিল এক অন্যরকম বাংলাদেশ—রঙে, ছন্দে, আর প্রত্যয়ের দীপ্তিতে ভরপুর। সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা যেন শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং এক জীবন্ত কাব্য—যেখানে মিশে আছে লোকজ ঐতিহ্য, ভালোবাসা, প্রতিবাদ আর নতুন স্বপ্নের আহ্বান।

জাতীয় সংগীতের গাম্ভীর্যে সূচিত এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ অসংখ্য সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। চারুকলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে উচ্ছ্বাস—বিভিন্ন মুখোশ ও রঙিন মোটিফে সজ্জিত জনতার ঢল যেন এক সজীব চিত্রপট।

রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি প্রদক্ষিণ করে আবার চারুকলায় ফিরে আসার এই যাত্রাপথ যেন প্রতীক হয়ে ওঠে সময়ের—অতীত থেকে বর্তমান, আর বর্তমান থেকে আগামীর দিকে এগিয়ে চলার।

প্রতিপাদ্যে জাগরণ, শিল্পে প্রতিবাদ-

‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে এবারের আয়োজন পেয়েছে গভীর তাৎপর্য। চারুকলার প্রাঙ্গণে নির্মিত প্রতিটি মোটিফ যেন কথা বলছে—সমাজের, মানুষের, সময়ের।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, বিশালাকৃতির মোরগের প্রতিকৃতি—ভোরের প্রথম আলোয় যার প্রতীকী ডাক যেন ঘোষণা করে নতুন দিনের, নতুন সূর্যের, নতুন সম্ভাবনার। কৃষিনির্ভর বাংলার চিরচেনা এই প্রতীক যেন আবারও মনে করিয়ে দেয় শিকড়ের টান।

সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাতি, চার চাকার ওপর দাঁড়িয়ে, বহন করছে বাংলার লোকশিল্পের শত বছরের স্মৃতি। এর পাশেই দোতরার সুর—যেন মরমিয়া বাংলার গভীর থেকে উঠে আসা এক নীরব প্রতিবাদ, বাউল ঐতিহ্যের অবহেলার বিরুদ্ধে এক আবেগঘন উচ্চারণ।

শান্তি, প্রেম ও সহাবস্থানের বার্তা-

শোভাযাত্রায় উড়ছে পায়রার প্রতীক—শান্তি, সম্প্রীতি আর সহাবস্থানের এক চিরন্তন আহ্বান। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানুষের হৃদয়কে একসূত্রে গেঁথে দেয় এই প্রতীকী বার্তা।
কিশোরগঞ্জের টেপা বা পোড়ামাটির ঘোড়া, আরোহীসহ, যেন বাংলার গ্রামীণ জীবনের গতি আর সৌন্দর্যকে নতুন করে তুলে ধরে। প্যাঁচা, বাঘের মুখোশ ও অন্যান্য ছোট মোটিফগুলো মিলিয়ে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে এক বিস্ময়কর শিল্পভুবন।

পটচিত্রে ইতিহাস, তুলিতে জীবনের গল্প-

এবারের শোভাযাত্রায় যুক্ত হয়েছে পাঁচটি পটচিত্র—যেখানে শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠেছে বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজবাস্তবতার নানা রূপ। পটচিত্রী টাইগার নাজিরের হাত ধরে এই চিত্রগুলো যেন হয়ে উঠেছে জীবন্ত দলিল।

আবেগের ঢেউ, ভালোবাসার বিস্তার-

একদিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা, অন্যদিকে বসন্তের বিদায়ের মায়া—এই দুই আবেগের মেলবন্ধনে সারা দেশে বইছে এক অদ্ভুত অনুভূতির জোয়ার। যেন বহমান নদীর মতো ছুটে চলেছে আনন্দ, ভাসিয়ে নিচ্ছে দুঃখ-গ্লানি, জাগিয়ে তুলছে নতুন স্বপ্ন।

বৈশাখী শোভাযাত্রা তাই কেবল একটি উৎসব নয়—এটি এক আত্মার জাগরণ, এক প্রতিবাদের ভাষা, এক ভালোবাসার ঘোষণা। নতুন বছরের প্রথম দিনেই যেন পুরো জাতি একসাথে বলছে— আমরা আছি, আমরা জাগছি, আমরা বদলে দেব আগামী ভবিষ্যত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।