শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যা গরুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধে খুন? সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েক শীর্ষ সন্ত্রাসী

স্টাফ রিপোর্টার
মে ১, ২০২৬ ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নাঈম আহমেদ টিটন

রাজধানী ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে আবারও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যা। ঘটনাটিকে ঘিরে অপরাধ জগতের নতুন করে মেরুকরণ ও আধিপত্য বিস্তারের ইঙ্গিত মিলছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত না হলেও গরুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ সামনে এসেছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজনের তালিকায় উঠে এসেছে কয়েকজন পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম।

মামলা ও প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
টিটন হত্যার ঘটনায় গত বুধবার নিউমার্কেট থানায় মামলা করেছেন তার বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, বছিলা গরুর হাটের ইজারা নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী এনামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালসহ কয়েকজনের সঙ্গে টিটনের বিরোধ চলছিল।

তবে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, শুধুমাত্র হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ নয়—এর পেছনে আরও বড় কোনো দ্বন্দ্ব বা আধিপত্য বিস্তারের লড়াই থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরিবারের বক্তব্য-ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ গ্রহণের সময় রিপন সাংবাদিকদের জানান, হত্যার কয়েকদিন আগে টিটন তাকে গরুর হাট নিয়ে বিরোধের কথা বলেছিলেন।

তার ভাষায়, পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বছিলার গরুর হাট নিয়ে ঝামেলা চলছিল। পরে আবার বলেছিল, সব ঠিক হয়ে যাবে। টিটনের ভগ্নিপতি সানজিদুল ইসলাম ইমনও এক সময় একই গ্রুপে সক্রিয় ছিলেন। যদিও পরিবারের দাবি—তাদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো বিরোধ ছিল না।
টিটনের চলাফেরা ও পটভূমি

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি পান টিটন। এরপর তিনি আর নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেননি।

মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় তার তৎপরতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কোথায় অবস্থান করতেন, সে বিষয়ে পরিবারও নিশ্চিত নয়।
রিপন বলেন, সে পরিবার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। মাঝে মাঝে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করত।
ঘটনার বিবরণ

গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেট এলাকার শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানান, হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সমঝোতার কথা বলে ডাকার বিষয়টিও তদন্তে রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে মোটরসাইকেলে দুইজনকে পালাতে দেখা গেছে, তবে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি

তিনি বলেন, প্রথমে শুটারদের শনাক্ত করাই প্রধান লক্ষ্য। তাদের ধরা গেলে পরিকল্পনাকারীদেরও বের করা সম্ভব হবে। এদিকে, সন্দেহজনকভাবে হাসপাতালে আশপাশে ঘোরাফেরা করার সময় একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সম্ভাব্য প্রতিশোধ ও আন্ডারওয়ার্ল্ডে অস্থিরতা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, টিটন পূর্বের কিছু আলোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তে এসেছে। বিশেষ করে সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না—সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘর্ষ বাড়ছে। ফলে টিটন হত্যার জেরে পাল্টা হামলা ও নতুন সহিংসতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, এর আগেও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে হত্যা, এলিফ্যান্ট রোডে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী কুপিয়ে জখম, মোহাম্মদপুরে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড। এসব ঘটনার পেছনেও একই ধরনের বিরোধ ও প্রভাব বিস্তারের লড়াই ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে টিটন হত্যা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং ঢাকার অপরাধ জগতের পুনর্গঠন ও ক্ষমতার লড়াইয়ের বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—
আধিপত্য বিস্তার, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং পুরনো দ্বন্দ্ব—এই তিনটি কারণই এই হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রে থাকতে পারে।
পরবর্তী সময়ে তদন্তের অগ্রগতি ও গ্রেপ্তারই নির্ধারণ করবে—এই হত্যার প্রকৃত নেপথ্য কারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।