হাওরে বাড়ছে পানি, ডুবে গেছে সংযোগ সড়ক—ফেরি বন্ধে চরম দুর্ভোগে কিশোরগঞ্জবাসী। ছবি : সংগৃহীত
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানির উচ্চতা বেড়ে জেলার ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এতে হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কয়েকটি ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব ঘাটে আপাতত ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু করা হবে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা ও চামড়াঘাট, মিঠামইন উপজেলার শান্তিপুর, ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ি ও বলদা এবং বাজিতপুর উপজেলার পাটুলী ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এসব রুটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং রোগীরা। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য, মাছ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনেও সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানির স্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে হাওরাঞ্চলের নদ-নদীর পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, পাউবো ও সওজ বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
