কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিখোঁজ হওয়া মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক বকুল মন্ডল (৩৫) অবশেষে ১৩ দিন পর ভারত থেকে ফিরে এসেছেন পরিবারের কাছে। সীমান্ত পেরিয়ে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েছে পরিবার। বিজিবি ও বিএসএফের সমন্বয়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শনিবার রাতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
বকুল মন্ডল দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি (মরার পাড়া) গ্রামের লুৎফর রহমান মন্ডলের ছেলে। পরিবার ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন বকুল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় সবাই আশঙ্কা করছিলেন, হয়তো কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তিনি।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতের কলকাতায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা এক বাংলাদেশি যুবকের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেই ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা আঁতকে ওঠেন—এ যে তাদেরই বকুল! পরে পরিচয় নিশ্চিত হলে পরিবারের মধ্যে ফিরে আসে আশার আলো।
জানা যায়, ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যাওয়া বকুল স্থানীয় কিছু মানুষের সহায়তায় আবার বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি টের পেয়ে ভারতের বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তসংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে তাকে আটক করে নিজেদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি বিজিবিকে জানায়।
শনিবার রাত ১০টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়াইকুড়ি সীমান্তের ১৫৭/২(এস) পিলারের কাছে বিজিবির চিলমারি ক্যাম্প ও ভারতের বিএসএফ চরভদ্র ক্যাম্পের সদস্যদের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ বকুলকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
রোববার সকাল গড়াতেই শুরু হয় আরেক আবেগঘন অধ্যায়। বেলা ১১টার দিকে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে বকুলকে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়। দীর্ঘ ১৩ দিনের উৎকণ্ঠা শেষে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা লুৎফর রহমান মন্ডল।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন,
“বকুল মানসিক প্রতিবন্ধী। ও নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল আর কোনোদিন হয়তো ফিরে পাব না। ফেসবুকে ওর ছবি দেখে চিনতে পারি। বিজিবি ও স্থানীয় মেম্বারের সহযোগিতায় আমার কলিজার টুকরোকে আবার ফিরে পেয়েছি। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।”
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, বকুল মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় অসাবধানতাবশত সীমান্ত পার হয়ে গিয়েছিল। খবর পাওয়ার পর থেকেই বিজিবির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়। দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগেই তাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
বিজিবির চর চিলমারি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোশারফ হোসেন বলেন,দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৩ দিনের দুঃসহ অনিশ্চয়তা শেষে বকুলের ঘরে ফেরার এই ঘটনা এখন পুরো এলাকায় স্বস্তি আর আবেগের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
