গাজীপুরের কাপাসিয়ার আলোচিত পাঁচ খুন মামলার প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা যাওয়ার পর থেকেই তাকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছিল। অবশেষে শনিবার পদ্মা থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে পরিবার ও পুলিশ।
লৌহজংয়ের মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. ইলিয়াস জানান, পদ্মা সেতু থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে নৌ পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
ফোরকানের ভাই আব্দুল জব্বার এবং কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের রহমান মরদেহটি ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার পরই চূড়ান্তভাবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিসিটিভিতে রহস্যময় ঝাঁপ
এর আগে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে জানান, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়—এক ব্যক্তি একটি প্রাইভেটকার থেকে নেমে মোবাইল ফোন ফুটপাতে রেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। এরপর সেতুর রেলিং টপকে নদীতে ঝাঁপ দেন।
ভিডিওটি নিহত শারমিনের বাবা, ফোরকানের ভাই জব্বারসহ কয়েকজন স্বজনকে দেখানো হলে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও ধারণা করেন, ওই ব্যক্তিই ফোরকান।
মোবাইল উদ্ধার, মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ফোরকানকে ধরতে তিনটি বিশেষ টিম অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতুর ওপর থেকে পেয়েছিলেন।
পরে তদন্তে জানা যায়, সিসিটিভিতে দেখা প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। চালককে ফোরকান বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যেতে হবে।
“দ্বিতীয় কারও সংশ্লিষ্টতা মেলেনি”
পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তদন্তে হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
যে ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল কাপাসিয়া
গত ৮ মে দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় ঘটে ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড। নিহত হন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
নৃশংস এই পাঁচ খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
