শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

(২য় পর্ব)চট্টগ্রাম কাস্টমসে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ এসি ওমর কাউসার ও রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ, স্বাধীন তদন্তের দাবি ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পণ্য খালাস ও আনস্টাফিং কার্যক্রম ঘিরে ঘুষ আদায়, ফাইল আটকে রাখা এবং সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (এসি) ওমর কাউসার ও রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করে ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে ব্যবসায়ী মহলে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দাবি, অভিযোগের পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তারা স্বপদে বহাল থাকায় হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না। বরং প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এ অবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার কিংবা এনবিআরের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি।

পাঁচ আনস্টাফিং গেট ঘিরে সাপ্তাহিক দেড় লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

খসড়ায় উল্লিখিত পূর্ববর্তী সংবাদসূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটিসহ পাঁচটি আনস্টাফিং গেট থেকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক পণ্য খালাসের সময় গেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পণ্য পরীক্ষা করার পরও অনুমতির জন্য ফাইল পাঠানো হয় সহকারী কমিশনার ওমর কাউসারের কার্যালয়ে।

সেখানে ফাইলের অনুমোদন পেতে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস ও এসি ওমর কাউসারের মাধ্যমে ফাইল আটকে রেখে পরদিন পুনরায় পরীক্ষার কথা বলা হয়। এরপরও দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও কাজ শেষ হয় না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সারা দিন বসিয়ে রাখার পর রাত ১০টা থেকে ১১টার দিকে কাজ স্থগিত করা হয়। পরদিন আবার একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাঁদের দাবি, এ ধরনের ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রেখে ডেমারেজ চার্জ বাড়ার আশঙ্কা দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে আমদানিকারকদের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। তবে কোন গেট থেকে কত টাকা, কার কাছে বা কীভাবে আদায় করা হয়েছে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ খসড়ায় উল্লেখ নেই।

সংবাদ প্রকাশের পরও ব্যবস্থা নেই, ক্ষোভ ব্যবসায়ীদের

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বলেন, অভিযোগ নিয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও কাস্টমস কমিশনার কিংবা এনবিআরের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তাঁদের ভাষ্য, পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও কাস্টমস কমিশনার বা এনবিআর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। সাধারণ কোনো ঘটনায় শোকজ বা বদলি করা হলেও, এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের স্বপদে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের দাবি, হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো কিংবা সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং তাঁদের ওপর চাপ ও হয়রানি আরও বেড়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের প্রশ্ন, অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? এর পেছনে উচ্চপর্যায়ের কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত ব্যবসায়ীদের দাবি ও সন্দেহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এনবিআর-দুদকের স্বাধীন তদন্তসহ তিন দফা দাবি

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও হয়রানি বন্ধে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন।

প্রথমত: এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত: নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে স্পর্শকাতর দায়িত্ব থেকে অপসারণ অথবা সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে।

তৃতীয়ত: অভিযোগের সঙ্গে কাস্টম হাউসের কমিশনার কিংবা অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং পণ্য খালাস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

পণ্য খালাসে বিলম্ব, বাড়ছে ব্যবসায়িক ব্যয়ের শঙ্কা

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দেশের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান। আমদানি-রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়ন ও খালাসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এখান থেকেই সম্পন্ন হয়। ব্যবসায়ীদের পক্ষে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।

এ প্রক্রিয়ায় কোনো ফাইল আটকে থাকলে পণ্য খালাসে বিলম্ব ঘটে। এতে আমদানিকারকদের ডেমারেজ চার্জসহ বিভিন্ন ধরনের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হতে পারে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের হয়রানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কাস্টম হাউসের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে আটকে থাকা ফাইলের সংখ্যা, ডেমারেজের পরিমাণ কিংবা পূর্ববর্তী অভিযোগের নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। এনবিআর বা দুদকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার ওমর কাউসার, রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার এবং এনবিআরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কেউ নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেননি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তারা নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ