মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর সব দিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ১৫, ২০২৬ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরের পর এই রায় প্রকাশ করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ ক্যাম্পাসে নিরস্ত্র ছাত্র-আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বেআইনি অভিযানে জেনেশুনে সহায়তা ও সমর্থন দেন। তিনি সহিংসতা থামাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি; বরং অভিযানে জড়িতদের প্রতি সমর্থন ও নীরব সম্মতি প্রদানের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলেন।

রায়ে আরও বলা হয়, তার এই ভূমিকা, অর্থাৎ কার্যকলাপ ও নিষ্ক্রিয়তা—আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য আহত হওয়ার ঘটনার জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, রংপুরের সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অনুমতি ও সুযোগ সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি তার অধীনস্থ বাহিনীর বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণে তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হন বলেও রায়ে উঠে এসেছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল জানায়, চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ এবং জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানকারী মিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আবু সাঈদকে পুলিশ সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে ও বেআইনিভাবে হত্যা করেছে। এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়, একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির আঘাতে সৃষ্ট শক ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই আবু সাঈদের মৃত্যু ঘটে, যা সরাসরি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত।

ট্রাইব্যুনালের ভাষ্য অনুযায়ী, আবু সাঈদের হত্যা জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় বেসামরিক জনগণের ওপর পরিচালিত একটি বৃহৎ ও পরিকল্পিত আক্রমণের অংশ ছিল। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ৩(২)(ধ) অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পেয়েছি। ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত বিচারিক ও যুক্তিনির্ভরভাবে এই রায় দিয়েছেন বলে আমার মনে হয়েছে। ৩০ জন আসামিকেই সাজা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় যারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে, লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করেছে বা যাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।