নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৫), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮), কন্যা আরিফা (৫), ছেলে আরাফাত হোসেন অয়ন (২০)। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী রোমে হৃদয়বিদারক এক হত্যাকাণ্ডে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরও এক সদস্য, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ মিয়ার নতুন বাড়ির বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৫), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের মাত্র ৫ বছর বয়সী কন্যা আরিফা।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাবুলের ২০ বছর বয়সী ছেলে আরাফাত হোসেন অয়ন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ইতালির জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাতে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই বাবুল, তার স্ত্রী ও কন্যার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অয়নকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিহত মমতাজ বেগম আরজুর ছোট ভাই নুরুল হুদা রাকিব জানান, কিছুদিন আগে আমার ভগ্নিপতি বাবুলসহ পুরো পরিবার ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রেখেছে। আমার ভাগ্নে আরাফাত হোসেন অয়নের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন নিহতদের স্বজন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
