জাতীয় সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। ছবি-সংগৃহীত
সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে যেন ধীরে ধীরে গলছে দূরত্বের বরফ। মতপার্থক্যের মৃদু ঢেউ পেরিয়ে একসাথে নতুন পথচলার ইঙ্গিত দিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তাঁর কণ্ঠে ভেসে উঠেছে এক সুরেলা প্রত্যয়—সরকার ও বিরোধী দল মিলেই আনবে সম্মিলিত প্রস্তাব, যেখানে থাকবে ঐক্যের স্পর্শ আর গণতন্ত্রের গভীর প্রতিশ্রুতি।
বুধবার জাতীয় সংসদের ট্যানেলে গণমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, মতের অমিল থাকলেও তা কোনো বিভাজনের দেয়াল নয়; বরং আলোচনার উষ্ণতায় গড়ে উঠবে সমঝোতার সেতু। সময়ের অপেক্ষা মাত্র—একই ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমের আবেগে বাঁধা পড়বে সব পক্ষ।
তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখা এবং দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। সংসদকে তিনি দেখছেন এক প্রাণবন্ত মঞ্চ হিসেবে, যেখানে মতবিনিময়ের ভেতর দিয়েই জন্ম নেয় সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ।
গণমাধ্যমের ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি এক ধরনের আবেগমাখা আহ্বানে। নেতিবাচকতার পাশাপাশি ইতিবাচক গল্পগুলোও যেন আলোয় আসে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। চট্টগ্রামের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু সংকট নয়, সম্ভাবনার দিকগুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে এক আন্তরিক শ্রদ্ধার সুরে। তিনি বলেন, মানবিক রাষ্ট্র গঠন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিটি পদক্ষেপেই রয়েছে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি।
ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকতে গিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তাঁর ভাষায়, বিশ্বজয়ের জন্য প্রয়োজন বহুভাষিক দক্ষতা—আরবি, মান্দারিন, ইতালিয়ান, কোরিয়ান, জাপানিজ—প্রতিটি ভাষাই খুলে দেয় নতুন সম্ভাবনার দরজা। তবে সবকিছুর মাঝেও ইংরেজিকে তিনি দেখছেন বৈশ্বিক যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বাস্তবতার কঠিন মাটিতেও যেন ফুটতে শুরু করেছে ঐক্যের কোমল ফুল—যেখানে মতভেদ নয়, মিলনের প্রত্যাশাই হয়ে উঠছে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় আশার প্রতিফলন।
