রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দৌলতপুরে ‘ভুয়া চিকিৎসকের’ বিরুদ্ধে দাঁতের ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

হারুন অর রশীদ
আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চিকিৎসকের পরিচয়ে দাঁত তোলার অভিযোগ, সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি যুবক—ক্ষতিপূরণ ও আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ। ফাইল ছবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চিকিৎসকের পরিচয়ে দাঁতের চিকিৎসা দেওয়ার পর ভুলভাবে দাঁত তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মো. দবির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ভুল দাঁত তুলে দেওয়ার পর ২০ বছর বয়সী এক যুবকের দাঁতের মাড়িতে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আশিকের বাবা মো. আমজাদ।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমজাদ দৌলতপুর উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, দৌলতপুর থানা বাজার এলাকায় দোকান পরিচালনা করে মো. দবির নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট সকালে আশিকের দাঁতে সমস্যা দেখা দিলে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে নিয়ে থানা বাজারে দবিরের দোকানে যান তাঁর বাবা। সেখানে দবির নিজেকে দাঁতের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আশিকের দাঁতের চিকিৎসা করেন।

ভুক্তভোগীর বাবার দাবি, চিকিৎসার সময় দবির একটি দাঁত তুলে ফেলার পরামর্শ দেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে দাঁত তোলার সম্মতি দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সমস্যাযুক্ত দাঁতের পরিবর্তে একটি সুস্থ দাঁত তুলে ফেলেন দবির।

এরপর আশিকের দাঁতের মাড়িতে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিবারের দাবি, আশিককে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে পরিবারের সদস্যরা আশিককে রাজশাহীর রয়্যাল হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেডে ভর্তি করেন। সেখানে তার দাঁতের অপারেশন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, কথিত ভুল চিকিৎসার কারণে আশিকের চিকিৎসায় প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভোগান্তির শিকার হয়েছে পরিবারটি।

মো. আমজাদ বলেন, ছেলের দাঁতের সমস্যা সমাধানের আশায় চিকিৎসকের পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ভুল দাঁত তুলে ফেলার পর ছেলেকে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। এতে ছেলের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি পরিবারকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত মো. দবিরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, এসব অনিয়ম ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. দবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে অভিযোগের সত্যতা, অভিযুক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা এবং কথিত ভুল চিকিৎসার কারণে শারীরিক জটিলতা সৃষ্টির বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।