শনিবার সকালে কক্সবাজারের পিএমখালী ইউনিয়নে ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
কক্সবাজারে বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
ঐতিহাসিক এই ‘পাতলী খাল’ ১৯৭৯ সালের ৪ ডিসেম্বর খনন করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর তার স্মৃতিবিজড়িত এই খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
দিনজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পেকুয়ার বাসভবনে বিশ্রাম ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেল ৪টায় চকরিয়া বাস টার্মিনালে আয়োজিত বিএনপির রাজনৈতিক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জনসভা শেষে কক্সবাজার শহরে সুধী সমাবেশে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করবেন তিনি। ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সফর ঘিরে জোর প্রস্তুতি, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। সফরের নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু পুলিশ নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি), বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সফরসূচিতে থাকা উদ্বোধন, পরিদর্শন ও মতবিনিময় কর্মসূচিগুলো সফল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে।
