মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাসের হেলপার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী! কে এই ‘অটো সজল’?

স্টাফ রিপোর্টার
জুন ২২, ২০২৬ ৫:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

বাসের হেলপারির আড়ালে গড়ে তুলেছিল ভয়ংকর অপরাধ সাম্রাজ্য। ঢাকার যাত্রাবাড়ী, ওয়ারী ও গেন্ডারিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন সজল ওরফে ‘অটো সজল’-এর ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছিল ভাড়ায় আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ ও মাদক সিন্ডিকেটের বিশাল নেটওয়ার্ক।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটো সজল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতেন। তার সঙ্গে দেখা করতে চক্রের সদস্যদের অতিক্রম করতে হতো তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছিলেন।

অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটো সজলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বামীবাগের একটি ভাড়া বাসায় অস্ত্র ও মাদক মজুত রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী মো. বাপ্পী, মো. হানিফ ও শামসুন্নাহারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়—

দুটি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত ৮৭ গ্রাম মেডি, মাদক বিক্রির নগদ ২২ হাজার ৯৬০ টাকা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত ২ মার্চ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে অটো সজলের নাম সামনে আসে। এর আগে ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অটো সজলকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশের দাবি, ডিএনসি কর্মকর্তার ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরবরাহ করেছিল অটো সজল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র সরবরাহ ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পেশায় বাসের একজন সাধারণ হেলপার হলেও আড়ালে তিনি পরিচালনা করতেন ভয়ংকর অপরাধচক্র।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। প্রতিটি অস্ত্রের নম্বর যাচাইয়ের জন্য পুলিশের অস্ত্র শাখায় পাঠানো হবে। তবে উদ্ধার হওয়া ৭৭ রাউন্ড গুলির মধ্যে পাঁচ রাউন্ড পুলিশের ব্যবহৃত গুলি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বাকি ৭২ রাউন্ড অন্য কোনো উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার অটো সজলের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে নয়টি গেন্ডারিয়া থানায় এবং দুটি যাত্রাবাড়ী ও ওয়ারী থানায়। বিস্ফোরক, মাদক ও অস্ত্র আইনে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও দুটি মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ডিএনসি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনার সূত্র ধরে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মীর মুহসীন মাসুদ রানা, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী, ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শামীম হোসেন এবং যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু।

বাসের একজন সাধারণ হেলপার থেকে কীভাবে অস্ত্র ও মাদকের ভয়ংকর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রকে পরিণত হলেন ‘অটো সজল’—সেই প্রশ্ন এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।