কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় যেন একদিনের জন্য হয়ে উঠেছিল আবেগ, ভালোবাসা আর স্বপ্নের এক রঙিন মঞ্চ। এসএসসি ও সাধারণ ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এক হৃদয়ছোঁয়া অনুষ্ঠান—যেখানে বিদায়ের বেদনা আর আগামীর সম্ভাবনা মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্য আবহ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়ার আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ (আব্দুর রাফেত বিশ্বাস কলেজ) এবং অবসরপ্রাপ্ত আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন। পুরো অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) একরামুল হক।

বিদায়ের ক্ষণ যেন সবসময়ই একটু কষ্টের, একটু না বলা কথার ভারে নীরব। তবুও এ বিদায় চিরবিদায় নয়—এ যেন নতুন দিগন্তে পা রাখার এক শুভ সূচনা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, বিদায় শব্দটি হৃদয়কে কাঁদায় ঠিকই, কিন্তু এর মাঝেই লুকিয়ে থাকে নতুন স্বপ্নের বীজ। তোমরা আজ যে পথে পা বাড়াচ্ছো, তা তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দুয়ার খুলে দেবে।

কবির সেই চিরচেনা পংক্তির মতো— যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়—বিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। প্রিয় শিক্ষার্থীদের বিদায় দিতে গিয়ে শিক্ষকমণ্ডলী ও ছোট ভাই-বোনদের চোখে ভেসে উঠেছিল অশ্রুর ঝিলিক, তবে সে অশ্রু ছিল না শুধুই বেদনার—ছিল গর্ব, ভালোবাসা আর অগাধ প্রত্যাশার।

শিক্ষকরা স্নেহভরে বলেন, কখনো আমাদের কথায় কষ্ট পেলে ক্ষমা করে দেবে। আমাদের জন্য দোয়া করবে, যেন তোমাদের সাফল্যের পথচলায় আমরাও গর্বের অংশ হতে পারি।
অন্যদিকে, নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয় ফুলেল শুভেচ্ছা আর উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে। নতুনদের পদচারণায় যেন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেজে উঠেছে নতুন সম্ভাবনার সুর।

দিনশেষে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় একটাই প্রতিশ্রুতি— ফিরে আসবে তারা, হয়তো অন্য কোনো পরিচয়ে, অন্য কোনো সাফল্যের গল্প নিয়ে; কিন্তু এই প্রিয় বিদ্যালয়, এই আঙিনা, এই স্মৃতিগুলো চিরকাল থাকবে হৃদয়ের গভীরে।

এভাবেই ছাতিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় সাক্ষী হয়ে রইল এক আবেগময় দিনের—যেখানে বিদায় মানেই শেষ নয়, বরং নতুন স্বপ্নের শুরু।
