রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে ভাসমান মানুষের নীরব মৃত্যুর মিছিল | ২১ মাসে ১৬০ মরদেহের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত মাত্র ২৭ জনের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতাই বড় কারণ। ফাইল ছবি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পেছনে দেয়ালঘেঁষা এক টুকরো খালি জায়গা। গত ৬ অক্টোবর বিকেল ৫টা। সেখানে শুয়ে আছেন আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। ডান পায়ের গোড়ালিতে ব্যান্ডেজ। শরীরে তেমন নড়াচড়া নেই। পাশ দিয়ে একের পর এক মানুষ হেঁটে যাচ্ছেন, কিন্তু তাঁর দিকে কারও তেমন ভ্রুক্ষেপ নেই। আশপাশের কেউ জানেন না, লোকটি কোথা থেকে এসেছেন, তাঁর পরিবার কোথায়। কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া গেল না কোনো উত্তর।
অথচ ওই দিন সকালেই ঠিক সেই জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক ব্যক্তির মরদেহ। তাঁর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। একই দিন কাছাকাছি আরেকটি স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় আরও একজনের মরদেহ। তাঁরও পরিচয় অজানা। পুলিশের ধারণা, অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন এলাকায় গত এক মাসে অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কারও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাহবাগ। আশপাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, চাঁনখাঁরপুল, হাইকোর্টের মাজার, দোয়েল চত্বর ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অথচ এসব এলাকার অলিগলি, হাসপাতালের দেয়ালঘেঁষা জায়গা কিংবা ফুটপাতেই দিন কাটে অসংখ্য ভাসমান মানুষের। তাঁদের অনেকের কাছে নেই স্থায়ী ঠিকানা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা নিয়মিত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ। মৃত্যুর পরও তাঁদের বড় একটি অংশ থেকে যান পরিচয়হীন।
৯ মাসে ৭৯ মরদেহ, পরিচয় মেলেনি ৬৫ জনের
শাহবাগ থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে শাহবাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৬৫ জনের পরিচয় মেলেনি।
এর আগে ২০২৫ সালে একই এলাকায় ৮১টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হয়েছিল মাত্র ১৩ জনের। সব মিলিয়ে গত ২১ মাসে উদ্ধার হওয়া ১৬০টি মরদেহের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হয়েছে ২৭ জনের। পরিচয়হীন থেকে গেছেন ১৩৩ জন, যা মোট মরদেহের প্রায় ৮৩ শতাংশ।
পুলিশের তথ্য বলছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ এলাকায় এক দিনেই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন, ২৬ সেপ্টেম্বর, একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ।
শুধু শাহবাগ নয়, ঢাকা মহানগরীতেও অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা উদ্বেগজনক। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পুলিশের আট বিভাগে মোট ২১৪টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৮১টি উদ্ধার করা হয় রমনা বিভাগে, যার বেশির ভাগই শাহবাগ থানাধীন এলাকার।
অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে তেজগাঁওয়ে ৫১টি, ওয়ারীতে ২১টি, লালবাগে ১৭টি, মতিঝিলে ১৭টি, মিরপুরে ১২টি, উত্তরায় ৯টি এবং গুলশানে সবচেয়ে কম ছয়টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে ৭৬টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে ডিএমপি। এর মধ্যে ৩১টি রমনা বিভাগে, যার অধিকাংশই শাহবাগ এলাকার। এরপর মতিঝিলে ১৪টি ও ওয়ারীতে ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অসুস্থতা, অপুষ্টি ও চিকিৎসাহীনতায় ঝরে প্রাণ
পুলিশের তথ্য ও মরদেহের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মৃত ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ৪০ বছরের বেশি। তাঁদের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত বলে ধারণা করা হয়। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া, দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে থাকা এবং শরীরে পচন ধরার মতো জটিলতার কারণেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও চিকিৎসকদের ভাষ্য, এসব অজ্ঞাতপরিচয় মানুষের বড় অংশই ভাসমান। তাঁদের নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই, অনেকের জোটে না পুষ্টিকর খাবারও। ঠান্ডাজনিত রোগ, বার্ধক্যজনিত জটিলতা কিংবা অন্যান্য অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে তুলনামূলক কম বয়সেও তাঁদের মৃত্যু হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. মমতাজ আরা সমকালকে বলেন, বিভিন্ন স্থানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই সেপটিক শকে আক্রান্ত ছিলেন। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একে একে অকার্যকর হয়ে গেলে এ ধরনের রোগীদের মৃত্যু হতে পারে।
কেন শাহবাগেই এত ভাসমান মানুষের আশ্রয়?
গত দুই মাসে শাহবাগ এলাকার ভাসমান মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শাহবাগ এলাকার কিছু স্থানকে তাঁরা তুলনামূলক নিরাপদ মনে করেন। তাঁদের ভাষ্য, এসব এলাকায় পুলিশের তৎপরতা কম বলে তাঁদের ধারণা। পাশাপাশি হাইকোর্ট ও দোয়েল চত্বরের পাশের মাজারে দিনে দুই বেলা বিনা মূল্যে খাবার পাওয়ায় অনেকেই এখানে অবস্থান করেন। খাবারের সন্ধানে জাতীয় স্টেডিয়াম, পুরান ঢাকা ও কমলাপুর থেকেও অনেকে আসেন।
জাতীয় ঈদগাহের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত শাহ খাজা শরফুদ্দীন চিশতির (রহ.) মাজার, যা হাইকোর্ট মাজার নামে পরিচিত, সেখানেও প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। খাবারের সময় মাজার এলাকায় ভিড় করেন ভবঘুরে ও ভাসমান মানুষেরা।
মাজারের বাবুর্চি মো. নাজমুল হোসেন সমকালকে জানান, প্রতিদিন দুপুরে ও সন্ধ্যায় প্রায় ৫০০ জনের খাবার রান্না করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ভবঘুরে প্রকৃতির মানুষ। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁরা খাবার নিতে আসেন।
এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান, অমর একুশে হল ও আবাসিক এলাকার সামনে আনন্দ বাজার থেকেও ভাসমান মানুষেরা খাবার সংগ্রহ করেন। খাবারের সহজলভ্যতা এসব এলাকায় তাঁদের অবস্থানের অন্যতম কারণ।
পরিবার ছেড়ে রাস্তায়, সঙ্গীদের মৃত্যুও দেখেছেন তাঁরা
দোয়েল চত্বরের পাশে ঢাকা গেটে সাগর নামে মধ্যবয়সী এক ভবঘুরে জানান, পরিবার ছেড়ে পাঁচ-ছয় বছর ধরে তিনি ওই এলাকার আশপাশে থাকেন। এ সময়ে তাঁর সঙ্গে থাকা সাত-আটজন মারা গেছেন। সারাদিন তিনি ওই এলাকাতেই থাকেন এবং তাঁর মতো অন্যরাও পাশের মাজার থেকে খাবার খান।
হাইকোর্ট মাজারের গেটে নূর আলম নামের এক ভাসমান ব্যক্তি বলেন, ‘কোনো কাজ করি না। মাজার থেকে খাবার খাই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে থাকা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বেশি নড়াচড়া করতে পারেন না। আশপাশের দোকানিরা তাঁকে খাবার দেন।
তাঁদের জীবনযাপনের এই চিত্র বলছে, চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয়ের অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে অনেক মানুষের। আর তাঁদের কেউ মারা গেলে পরিচয় শনাক্তের মতো প্রয়োজনীয় তথ্যও অনেক সময় পাওয়া যায় না।
পরিচয়হীন মানুষের তালিকা তৈরির পরামর্শ বিশেষজ্ঞের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, গৃহহীনতা, পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক অসুস্থতাসহ নানা কারণে মানুষ ভবঘুরে হয়ে সড়কে আশ্রয় নেয়।
তিনি বলেন, রাজধানীতে এসব মানুষের পরিচয় ও তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা প্রয়োজন। এতে তাঁরা কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তা শনাক্ত করা যেমন সহজ হবে, তেমনি মৃত্যুর পর তাঁদের পরিচয় জানা ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পথও সহজ হবে। এটি সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব।
বিশেষজ্ঞদের এই পরামর্শের তাৎপর্য হলো, শুধু মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা নয়, জীবিত অবস্থায় ভাসমান মানুষের পরিচয়, পরিবার, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অবস্থার তথ্য সংরক্ষণ করাও জরুরি।
বছরে গড়ে ২৯২ অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভাগটিতে মোট এক হাজার ৬৯০টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
বছরভিত্তিক হিসাবে, ২০২১ সালে ২৪৮টি, ২০২২ সালে ২৩০টি, ২০২৩ সালে ২৫০টি, ২০২৪ সালে ৩২৪টি, ২০২৫ সালে ৩৮৪টি এবং চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২৫৪টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। এই হিসাবে প্রায় পৌনে ছয় বছরে বছরে গড়ে প্রায় ২৯২টি মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। শীতকালে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিকিৎসকেরা জানান, ময়নাতদন্তের সময় মরদেহের পরিচয় শনাক্তে সহায়ক বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দাঁত ও হাড়ের নমুনাও সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব নমুনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে স্বজনের সন্ধান পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ থাকে।
পরিচয় শনাক্তে পুলিশের উদ্যোগ, তবু রয়ে যায় সীমাবদ্ধতা
পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় প্রতিটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। পরে সিআইডি ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) মাধ্যমে জাতীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়।
তবে যাঁদের কখনো জাতীয় পরিচয়পত্র করা হয়নি, তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার মরদেহ পচে যাওয়ার কারণে অনেক সময় আঙুলের ছাপ বা অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করাও সম্ভব হয় না।
ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমেও পরিচয় শনাক্তের জন্য তথ্য প্রচার করা হয়। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলে মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম সমকালকে বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় যেসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তাঁদের অধিকাংশেরই কোনো পরিচয়পত্র থাকে না। এ কারণে বেশির ভাগ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। পরিচয় না পাওয়া গেলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বেওয়ারিশ মরদেহ হিসেবে সেগুলো আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বছরে গড়ে ৫৭৭ বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ৪৬০টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে ৬৪৪টি, ২০২৪ সালে ৫৭০টি এবং ২০২৩ সালে ৪৯০টি মরদেহ দাফন করা হয়। চার বছরে মোট দুই হাজার ১৬৪টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে রাজধানীর রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ৫৭৭টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বেওয়ারিশ মরদেহ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেগুলো দাফন করা হয়।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের দাফন সেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা মরদেহের তালিকা সংরক্ষণ করা হয়। দাফনের পর কোনো পরিবার বা স্বজনের সন্ধান পাওয়া গেলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের কবর চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।
মৃত্যুর পরও পরিচয়ের অপেক্ষা
শাহবাগের ৬৫টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের হিসাব কেবল একটি এলাকার পরিসংখ্যান নয়; এটি নগরজীবনের আড়ালে থাকা এক গভীর মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। যাঁদের অনেকেই জীবদ্দশায় চিকিৎসা, খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে দিন কাটান, তাঁদের মৃত্যুর পরও পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না। স্বজনদের কাছে ফেরার সুযোগও অনেকের ক্ষেত্রে অনিশ্চিত থেকে যায়।
পরিচয়হীন মানুষের জন্য কার্যকর তথ্যভান্ডার, সহজলভ্য চিকিৎসা, আশ্রয় ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এই সংকট মোকাবিলায় অগ্রগতি সম্ভব। একই সঙ্গে মরদেহ শনাক্তের জন্য সংরক্ষিত তথ্য ও নমুনার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে কোনো মানুষকে শেষ পর্যন্ত পরিচয়হীন অবস্থায় বিদায় নিতে না হয়।
