ধন-সম্পদ, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় ঘরে ঘরে পূজার আয়োজন, মন্দির-মণ্ডপেও নানা আনুষ্ঠানিকতা। ফাইল ফটো
লক্ষ্মীপূজা আজ রোববার। নানা ধর্মীয় আয়োজন, উপবাস, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উদযাপন করবেন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এই ধর্মীয় উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের পরবর্তী পূর্ণিমা তিথিতে আয়োজিত এ পূজা ঘিরে ঘরে ঘরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ধন-সম্পদ, ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ কামনায় ভক্তরা প্রস্তুতি নিয়েছেন নানা আয়োজনে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, লক্ষ্মী দেবী ধন-সম্পদ ও ঐশ্বর্যের পাশাপাশি উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, দানশীলতা, সাহস এবং সৌন্দর্যের প্রতীক। তাই সংসারে সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্বাচ্ছন্দ্য কামনায় ঘরে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।
লক্ষ্মী দেবী দ্বিভুজা এবং তাঁর বাহন পেঁচা। তাঁর হাতে থাকে শস্যের ভান্ডার। তবে বাংলার বাইরে লক্ষ্মীর চতুর্ভুজা কমলে-কামিনী মূর্তির প্রচলন বেশি দেখা যায়। লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে হিন্দু নারীরা উপবাস ব্রত পালন করেন। পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় ধানের শীষ, কাঁচা সুপারি, কলাপাতা, কলাগাছের খোলসহ বিভিন্ন সামগ্রী। মঙ্গলঘট ও ধানের ছড়ার পাশাপাশি গৃহস্থের আঙিনায় চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা আলপনায় ফুটে উঠবে মা লক্ষ্মীর পদচিহ্ন। বহু বাড়ির প্রবেশপথেও আঁকা হবে দেবীর পায়ের ছাপ।
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার তাৎপর্য
হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এই ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা নামেও পরিচিত। কোজাগরী’ শব্দের অর্থ—‘কে জেগে আছো’। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল রাত আশ্বিনের পূর্ণিমা তিথিতে ধন-সম্পদ, প্রাচুর্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী বিষ্ণুলোক থেকে পৃথিবীতে নেমে আসেন ভক্তদের পূজা গ্রহণ করতে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী সন্তুষ্ট থাকলে সংসারে অর্থকষ্ট দূর হয় এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পায়। পূর্ণিমার রাতে দেবী মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ‘কে জেগে আছো’—এমন প্রশ্ন করেন বলে বিশ্বাস করেন ভক্তরা। এ বিশ্বাস থেকেই পূজাটি ‘কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
মন্দির-মণ্ডপের পাশাপাশি ঘরে ঘরে পূজা
লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মন্দির, মণ্ডপ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আজ পূর্ণিমা তিথিতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। পূজা শেষে ভক্তদের মধ্যে অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দির, রামসীতা মন্দির, পঞ্চানন্দ শিবমন্দির, গৌতম মন্দির এবং রাধামাধব বিগ্রহ মন্দিরে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর, ফরাশগঞ্জ ও লক্ষ্মীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পূজার নানা আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়ে আগামীকাল সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে শেষ হবে। পূর্ণিমার এই তিথিকে ঘিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠবে মন্দির-মণ্ডপ ও ঘরোয়া পূজামণ্ডপগুলো।
