চট্টগ্রামের রাজনৈতিক আকাশে যেন হঠাৎই জমেছে নাটকীয়তার মেঘ। সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম–এর বাসভবনে এক ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য, কৌতূহল আর তুমুল আলোচনা। সেই সফর যেন নিছক ভদ্রতা নয়—বরং এক অদৃশ্য রাজনৈতিক স্রোতের ইঙ্গিত!
মঙ্গলবার দুপুরে নগরের কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের বাসায় যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। কিন্তু এই সাক্ষাৎ শান্ত থাকেনি—বাসার সামনে নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা একদল লোক তাকে ঘিরে ধরলে পরিস্থিতি নেয় উত্তেজনাপূর্ণ মোড়।
প্রশ্নের পর প্রশ্ন— আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন? আপনি তো নিষিদ্ধের কথা বলেন, তবে এই সম্পর্ক কেন?
এ যেন রাজনৈতিক যুক্তির চেয়ে বেশি আবেগ আর আদর্শের সংঘর্ষ! তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও শান্ত কণ্ঠে পরিস্থিতি সামাল দেন হাসনাত। তার সংযমী আচরণে মুহূর্তের উত্তেজনা ধীরে ধীরে নেমে আসে।
অন্যদিকে, মনজুর আলম বিষয়টিকে দেখছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে। তার ভাষায়, এটা নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ—রাজনীতির কোনো রঙ নেই এখানে।
একই সুর এনসিপির নেতাদের কণ্ঠেও। তারা বলছেন, এটি ছিল ব্যক্তিগত সফর—কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ নয়।
কিন্তু রাত নামতেই চিত্র পাল্টায়। এনসিপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উঠে আসে অন্য এক গল্প—সেখানে বলা হয়, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুজনের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার আশাও ব্যক্ত করা হয়েছে!
এতে প্রশ্ন আরও গভীর হয়— এটি কি শুধুই সৌজন্য?
নাকি আসন্ন সিটি নির্বাচনের আগে গোপন জোটের আভাস?
রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে—মনজুর আলম আবারও মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন। আর ঠিক এই সময়েই হাসনাতের এই সফর যেন কাকতালীয় নয়, বরং এক রহস্যময় ইঙ্গিত!
পুরনো ইতিহাসও যেন নতুন করে কথা বলছে—
২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রার্থীকে হারিয়ে মেয়র হওয়া মনজুর আলম, পরে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও পাননি।
আজ, বহুদিন পর তার দরজায় কড়া নাড়লেন এক তরুণ নেতা— এ যেন রাজনীতির পুরনো নদীতে নতুন ঢেউ!
