দায়িত্ব ফিরে পাওয়া ৬ ইউপি চেয়ারম্যান। ছবি : গণমাধ্যম থেকে সংগৃহীত
হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানরা ফের নিজ নিজ পদ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পর প্যানেল চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকজন চেয়ারম্যান পরিষদের কার্যক্রমও শুরু করেছেন।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানদের আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের চিঠি পাঠান। চিঠিতে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদন নং ৭০০৩/২০২৫-এর নির্দেশনা, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিপত্র এবং জেলা সরকারি আইন কর্মকর্তার দেওয়া আইনগত মতামতের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
দায়িত্ব ফিরে পাওয়া ৬ চেয়ারম্যান
হাইকোর্টের আদেশের পর দায়িত্ব ফিরে পাওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন—
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন: মো. কামাল হোসেন
চালা ইউনিয়ন: কাজী আব্দুল মজিদ
বাল্লা ইউনিয়ন: মো. বাচ্চু মিয়া
হারুকান্দি ইউনিয়ন: শেখ মোশারফ হোসেন
ধুলশুড়া ইউনিয়ন: মো. জায়েদ খান
বলড়া ইউনিয়ন: মো. মোসলেম উদ্দিন খান কুন্নু
চার চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে দায়িত্বে
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে বাল্লা, বলড়া, ধুলশুড়া ও হারুকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ পরিষদে গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর তারা পরিষদের কার্যক্রমও শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, বাকি দুই চেয়ারম্যানও শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের চিঠি পাওয়ার পর তিনি আগামী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে পদে যোগ দেবেন।
হারুকান্দি ও ধুলশুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরাও একই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
প্রশাসনের নির্দেশে দায়িত্ব হস্তান্তর
হরিরামপুরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিজা বীসরাত হোসেন বলেন, “হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ৬ ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রশাসনিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে প্যানেল চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশের পর প্রশাসনের এ পদক্ষেপে হরিরামপুরের সংশ্লিষ্ট ছয় ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালনের পথ আবারও উন্মুক্ত হলো। এখন তাদের নেতৃত্বে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম কতটা গতি পায়, সেটিই দেখার বিষয়।
