রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রকৌশলীর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙচুর, প্রায় ১০ ট্রাক মালামাল লুটের দাবি; নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে ভুক্তভোগী প্রকৌশলীর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীর বাইগারটেক এলাকায় ৫ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় পৈতৃক ও বৈধভাবে ক্রয় করা বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রায় ১০ ট্রাক মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, স্থানীয় প্রিন্সিপাল মো. লিয়াকত আলী, মাহাবুব আলম শেখ, মো. মানিক ও মো. তুহিনসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না দেওয়ায় ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর তার জমির বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করার পাশাপাশি সেনাক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দেন।

এরপর ৩০ এপ্রিল রাতে বাইগারটেকের ওই বসতবাড়িতে প্রায় ২০০ জনের একটি দল অস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে প্রায় ১০টি ট্রাকে করে ইট, লোহা, টিন, অটোরিকশার ব্যাটারিসহ ভাড়াটিয়াদের প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি করেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী।

ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও পল্লবী থানার ওসির সহায়তা চেয়েও কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি বাড়ি ভাঙার সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী।

ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও পল্লবী থানার ওসির সহায়তা চেয়েও কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি বাড়ি ভাঙার সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী।

ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি দেওয়ানি আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং ৮০/২৬ এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মোকদ্দমা নং ২০৫/২৬ (ধারা ১৪৫) দায়ের করেছেন বলেও জানান। তার ভাষ্য, আদালত থেকে সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুর বিভাগের ডিসির সহযোগিতায় সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ থাকলেও গত ৯ সেপ্টেম্বর লিয়াকত আলী ও তার ছেলে গোলাম কাওছারের নেতৃত্বে পুনরায় দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেয়াল ভাঙচুরের দৃশ্য দেখলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সম্পত্তি দখল, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদা দাবির অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ ও চলমান মামলার প্রেক্ষাপটে নালিশি সম্পত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ৩০ এপ্রিল ও ৯ সেপ্টেম্বরের ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা তদন্ত এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে ভুক্তভোগী পরিবার ও ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক সংঘাতে জড়াতে চান না। সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা হোক—এটাই তার প্রত্যাশা। এ অবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।