ভালোবাসার সম্পর্ক যেখানে হওয়ার কথা নিরাপত্তার আশ্রয়, সেখানে নেমে এসেছে নির্মম অন্ধকার—এমনই অভিযোগ তুলে নারী উদ্যোক্তা সুমাইয়া জাহান প্রমির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম। বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এক আবেগঘন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, সাত লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামী আবু ছৈয়দ মোহাম্মদ আনাস ও তার পরিবারের সদস্যরা গত ৯ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার মুরাদপুর শহীদনগরের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে হত্যা করেন প্রমিকে। স্বপ্নবোনা এক তরুণ উদ্যোক্তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে সারাদেশে শোক আর ক্ষোভের ঝড় উঠলেও, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বক্তারা অবিলম্বে প্রধান অভিযুক্ত আনাস, তার মা, বোন এবং বন্ধু আব্দুল্লাহ আল রিজভীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। তাদের কণ্ঠে ছিল একটাই আর্তি—“প্রমির রক্ত যেন ন্যায়বিচারের আলোয় কথা বলে।”
মানববন্ধনে প্রমির বোন সাজেদা আক্তার আবেগভরা কণ্ঠে অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বায়েজিদ থানার এসআই রাজিব তাদের সঙ্গে অসহযোগিতা করছেন। তিনি দাবি করেন, “আমরা ন্যায়বিচার চাই, কিন্তু উল্টো আসামিদের পালাতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
চিওড়া ইউনিয়ন ব্লাড ডোনেশনের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন নয়নের পরিচালনায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। তাদের প্রত্যেকের বক্তব্যে উঠে আসে একটাই বার্তা—অবহেলা নয়, দ্রুত বিচার চাই।
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানাধীন পূর্ব শহীদনগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে প্রমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ১১ এপ্রিল সকালে তার গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রামের ঝাটিয়ারখিল এলাকায় শেষ নিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে।
ভালোবাসা আর স্বপ্নে গড়া জীবনের এমন করুণ পরিণতি যেন আর কোনো প্রমির জীবনে না আসে—এই প্রত্যাশায়, ন্যায়বিচারের দাবিতে এখনও পথেই আছে তার স্বজন আর এলাকাবাসী।
