শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বন্ধুত্বের ডাকে মৃত্যু ফাঁদ: চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংসতায় লিফটের গর্তে ঝরে গেল সাজিদের জীবন

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম নগরের অন্ধকার রাত যেন গিলে খেল এক তরুণ স্বপ্ন। বন্ধুর ডাকে ঘর থেকে বের হওয়া কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ—ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। কিশোর গ্যাংয়ের নির্মমতায় আটতলা ভবনের লিফটের গভীর অন্ধকার গর্তে শেষ হলো তার জীবনের গল্প, রেখে গেল অসংখ্য প্রশ্ন আর বুকভাঙা আর্তনাদ।
গত রোববার রাতে নগরের ডিসি রোড সংলগ্ন মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। তবে চারদিন পর বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।

নিহত সাজিদ ছিলেন কবির নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। কক্সবাজারের চকরিয়া তার গ্রামের বাড়ি হলেও পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামের বাকলিয়া ডিসি রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল বিকেলে তার বন্ধু পরিচয়ে ফারদিন হাসান মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় সাজিদকে। বন্ধুত্বের সেই ডাক যে মৃত্যুর ফাঁদ—তা বুঝতে পারেননি তিনি। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতেই আইমন, অনিক, রানা, মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ একদল কিশোর তাকে ঘিরে ধরে। ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে পড়েন সাজিদ। গেট বন্ধ করে ছুটে যান আটতলায়। কিন্তু সেখানেও রক্ষা মেলেনি। হামলাকারীদের ধাক্কায় নিরাপত্তাকর্মী গেট খুলে দিলে তারা ওপরতলায় উঠে যায়। এরপর চলে নির্মম মারধর—নিষ্ঠুরতার এক ভয়াবহ দৃশ্য।

শেষপর্যায়ে, জীবনভিক্ষার কোনো আর্তনাদই থামাতে পারেনি তাদের উন্মত্ততা। সাজিদকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয় আটতলা থেকে লিফটের অন্ধকার গহ্বরে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাবা আবুল হাশেম সিকদারের কণ্ঠে শুধু শোক নয়, আছে ক্ষোভের আগুন—
আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এভাবে মেরে ফেলল! ও কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমি খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে চকবাজার থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ জানান, কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

একটি ফোনকল, এক মুহূর্তের বিশ্বাস—আর তারপর এক চিরন্তন বিদায়। চট্টগ্রামের আকাশে আজও ভাসছে সেই প্রশ্ন—কবে থামবে কিশোর গ্যাংয়ের এই অন্ধ সহিংসতা?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।