মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। ভেঙে ফেলা হয় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে দেওয়া গার্ড অব অনারের ভাস্কর্যটিও। সম্প্রতি তোলা ছবি: সংগৃহীত
আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস—বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে রাষ্ট্রীয় রূপ দেওয়ার এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে গঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যেখানে মুক্তির শপথে দীপ্ত হয়েছিল পুরো জাতি। সেই অগ্নিঝরা স্মৃতি বুকে ধারণ করে আজও দাঁড়িয়ে আছে মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স—তবে সময়ের ক্ষতচিহ্ন যেন স্পষ্ট তার শরীরজুড়ে।
প্রতিবারের মতো এবারও দিবসটি ঘিরে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর গর্বের আবেগে স্মরণ করা হচ্ছে জাতির সেই মহান মুহূর্তকে, যখন দুঃসময়েও বাঙালি বুক চিতিয়ে ঘোষণা করেছিল স্বাধীনতার অমোঘ অঙ্গীকার।
কিন্তু বেদনার বিষয়—যে স্মৃতি কমপ্লেক্স স্বাধীনতার ইতিহাসকে জীবন্ত করে রেখেছে, সেটিই আজ নানা অবহেলা আর অযত্নের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে। স্থাপনার বিভিন্ন অংশে ভাঙন, রঙচটা দেয়াল, অবকাঠামোগত দুর্বলতা—সব মিলিয়ে যেন ইতিহাস নিজেই প্রশ্ন তুলছে তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে।
স্থানীয়দের ভাষায়, এই কমপ্লেক্স শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক, মুক্তিযুদ্ধের আবেগ আর ত্যাগের স্মারক। অথচ যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা দিন দিন হারাচ্ছে তার জৌলুস।
পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়
মুজিবনগরের সেই আম্রকাননে একদিন যে স্বপ্ন বোনা হয়েছিল স্বাধীনতার, আজ সেই স্থানই যেন নীরবে অপেক্ষা করছে নতুন করে যত্ন আর সম্মানের স্পর্শের জন্য। ইতিহাসের এই অমূল্য সম্পদকে রক্ষা করতে এখনই প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ—না হলে সময়ের স্রোতে ম্লান হয়ে যেতে পারে গৌরবের সেই উজ্জ্বল অধ্যায়।
