মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় ভোরের শান্ত পরিবেশ আচমকাই রক্তাক্ত ঘটনায় রূপ নিল। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) ভোরে সাহারবাটি ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়ার কাশেমের মোড় এলাকায় গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মুকুল হোসেন (৫৪)-কে।
আহত মুকুল হোসেন সাহারবাটি গ্রামের মৃত নেক মোহাম্মদের ছেলে এবং গাংনী ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে হাঁটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন মুকুল। পথিমধ্যে কাশেমের মোড়ে পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে পরপর ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে ৪টি গুলি তার বুকে, পিঠে ও হাতে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
এদিকে সাহারবাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাশিরুল আজিজ হাসান জানান, মুকুল প্রতিদিনের মতোই হাঁটতে বের হয়েছিলেন। আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে।
আবার গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মুকুলকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওমর ফারুক বলেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একাধিকবার মুকুল হোসেনের ওপর বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে কয়েকটি মামলাও চলমান রয়েছে। ফলে পূর্ব শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার কিংবা আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ—যেকোনো কারণেই এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান দিপু জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। হামলার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন—কারা এবং কেন এমন নির্মম হামলার পথ বেছে নিল? এমনটাই ভাবছেন বিএনপির সংশ্লিষ্ট মহল।
