দপ্তরের নির্লিপ্ত দেয়াল যেন নীরবে শুনে গেছে বহু ফিসফাস, বহু গোপন চুক্তি। কাগজের ফাইলে জমে থাকা ধুলোর মতোই জমে উঠেছে অভিযোগ—গণপূর্তের লাইসেন্স শাখায় নাকি চলছে এক অদৃশ্য শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আর সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক নাম—নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলাম।
আবার নীরব দুপুরে কিংবা ব্যস্ত বিকেলের ভিড়ে, গণপূর্ত দপ্তরের লাইসেন্স শাখার করিডোরে হাঁটলে মনে হতে পারে সবই স্বাভাবিক—কাগজের শব্দ, কলমের আঁচড়, আর মানুষের ব্যস্ত পদচারণা। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালেই নাকি বোনা হয়েছে এক অদৃশ্য জাল—যেখানে নিয়মের ভাষা হার মানে ইশারার কাছে, আর সততা পরাজিত হয় লোভের মায়াবী আহ্বানে।
অভিযোগ বলছে, লাইসেন্স পাওয়া যেন আর শুধুই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়—এটি যেন হয়ে উঠেছে এক নিষিদ্ধ প্রেমের খেলা। যেখানে নিয়মের পথ দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ, সেখানে শর্টকাটের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেয় এক অদৃশ্য হাত। সেই ডাকে সাড়া দিলে খুলে যায় বন্ধ দরজা, আর না দিলে আটকে যায় স্বপ্নের পথচলা।
এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম যেন এক অন্ধকার রোমান্স—যেখানে বিশ্বাস আর প্রতারণা পাশাপাশি হেঁটে চলে। কেউ কেউ বলছেন, এখানে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুবিধার ভিত্তিতে, আর সেই সম্পর্কের বিনিময়ে চলে অস্বচ্ছ লেনদেন। যেন এক মায়াবী গল্প, যেখানে ভালোবাসা নয়, বরং লোভই হয়ে ওঠে প্রধান চরিত্র।
আবার যেখানে সেবার কথা, সেখানে নাকি তৈরি হয়েছে সুবিধার বাজার। অভিযোগ আছে, লাইসেন্স পেতে হলে নিয়মের পথে হাঁটা যথেষ্ট নয়; দরকার “বিশেষ সম্পর্ক” দরকার অদৃশ্য দরজার চাবি। কেউ কেউ বলছেন, যেন এক অদ্ভুত মোহের জাল—যেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় সহজ পথের, আর বিনিময়ে চাওয়া হয় অস্বচ্ছ লেনদেনের মূল্য।
এই সিন্ডিকেটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ধরনের রোমাঞ্চকর কিন্তু অস্বস্তিকর বাস্তবতা। যেন ক্ষমতা আর প্রভাবের এক নিষিদ্ধ প্রেমকাহিনি—যেখানে নৈতিকতা বারবার পরাজিত হয় লোভের কাছে। সাধারণ মানুষ যখন ন্যায্য অধিকার পেতে ঘুরপাক খায়, তখন এই গোপন চক্র নাকি নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে এগিয়ে রাখছে।
কিন্তু এই গল্পে কোনো সৌন্দর্য নেই—আছে শুধু অন্যায়ের কালো ছায়া। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ শুধু একটি ব্যক্তিকে নয়, পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। যে আস্থা নাগরিকরা রাষ্ট্রের ওপর রাখে, তা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায় এই ধরনের অনিয়মে।
সময়ের দাবি স্পষ্ট—স্বচ্ছ তদন্ত, কঠোর জবাবদিহি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা। কারণ দুর্নীতির এই “মায়াবী জাল” যতই আকর্ষণীয় গল্পের মতো শোনাক, বাস্তবে তা সমাজের জন্য বিষের মতোই ক্ষতিকর।
উল্লেখ্য যে, ‘রোমান্টিক’ মোড়কের আড়ালে যে সত্য লুকিয়ে আছে, তা ভয়ংকর। এটি কোনো প্রেমের গল্প নয়—এটি বিশ্বাস ভাঙার গল্প, এটি জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার গল্প। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম শুধু একটি নামকে নয়, পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে, আর সেই ফাটল থেকেই জন্ম নেয় ক্ষোভ, হতাশা আর অবিশ্বাস।
এসব অনিয়মের বিষয় জানতে চেয়ে শাকিলা ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোন রেসপন্স করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠিয়ে জবাব মেলেনি।
এ সিন্ডিকেটে জড়িতদের নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন থাকছে পরবর্তী সংখ্যায়। চলবে….
