সিয়াম
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার এক বৈশাখী মেলা মুহূর্তেই রূপ নেয় বিভীষিকায়। তুচ্ছ কথাকাটাকাটির জেরে সিয়াম (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে—একটি নিষ্ঠুর ঘটনায় স্তব্ধ পুরো এলাকা, শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পদুরবাড়ি হাই স্কুল মাঠে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল সিয়ামকে। কিন্তু জীবনের লড়াইয়ে আর টিকতে পারেনি সে—শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে পথেই নিভে যায় তার প্রাণ।
নিহত সিয়াম উপজেলার শিবপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। সে স্থানীয় মানকোন উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল—স্বপ্ন ছিল বড় হওয়ার, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন রক্তাক্ত মেলায় থেমে গেল নির্মমভাবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠতে মেলায় গিয়েছিল সিয়াম। রাত সাড়ে সাতটার দিকে বন্ধুদের দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তেই তা ভয়ংকর সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রতিপক্ষের কয়েকজন কিশোর দেশীয় অস্ত্র ও বাঁশ নিয়ে সিয়ামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করা হয় তাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে সেই পথযুদ্ধ আর জেতা হলো না সিয়ামের।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একটি তুচ্ছ ঝগড়া—একটি জীবন—একটি পরিবার ধ্বংস! প্রশ্ন থেকে যায়, কিশোরদের এই হিংস্রতা কোথায় থামবে? সমাজ কি আরেকটি সিয়ামের মৃত্যু দেখার অপেক্ষায়? নাকি এখনই সারাদেশে কিশোর গ্যাং দমনে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
