রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এক অনন্য আবেগঘন দৃশ্য—শুধু শোভাযাত্রা নয়, যেন সাংবাদিকতার অধিকার ফিরে পাওয়ার এক দৃঢ় অঙ্গীকার। দেশের গণমাধ্যমকে আধুনিক, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কাঠামোয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের উদ্বোধনী শোভাযাত্রা যেন হয়ে ওঠে দাবি আদায়ের প্রতীকী মিছিল।
নেতৃবৃন্দ বলেন, পুরোনো ধ্যানধারণার বেড়াজাল ভেঙে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া গণমাধ্যমে নতুন ইতিহাস রচনা সম্ভব নয়। তারা জোর দিয়ে বলেন—গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত হিসেবে ঘোষণা, প্রেস কাউন্সিল আধুনিকায়ন, তথ্য কমিশনের মাধ্যমে নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার, পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রকাশ এবং সাংবাদিক সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই—তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, চোখে ছিল স্বপ্নের দীপ্তি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ওমর ফারুক জালাল, সাব্বির আহমেদ রনি, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, কবি অশোক ধর, বীথি মোস্তফা ও শেখ শহীদুর রহমান পাভেলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রত্যেকের বক্তব্যে উঠে আসে একই সুর—অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
শোভাযাত্রায় ফরিদপুরে বালুদস্যুদের হামলায় আহত সাংবাদিক সাজ্জাদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে এক হৃদয়ছোঁয়া মাত্রা দেয়। তার বর্ণনায় উঠে আসে সহিংসতার নির্মমতা—যা উপস্থিতদের চোখে এনে দেয় জল, আর মনে জাগায় প্রতিবাদের আগুন। আয়োজকরা তাকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারা জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত সপ্তাহজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হবে—শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ, প্রশিক্ষণ, ‘মিট দ্য প্রেস’, এমনকি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ—সবকিছুই যেন এক নতুন সম্ভাবনার গল্প বলে।
দেশজুড়ে জেলা ও উপজেলায় একই উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে এই সপ্তাহ। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন—রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলে এই আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা হয়ে উঠবে সাংবাদিক সমাজের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন দিগন্তের সূচনা।
