প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে তৈরি।
আর মাত্র তিন মাস—এই সময়টুকু পার হলেই একটি সম্পর্ক পেত আইনি স্বীকৃতি, একটি সংসার পেত সামাজিক বৈধতা। কিন্তু সেই অপেক্ষার সময়টাই যেন হয়ে উঠল নির্মম এক দুঃস্বপ্ন।
এদিকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা-এর একটি গ্রামের ঘরে দরজা বন্ধ করে লোহার শিকলে আটকে রাখা হয়েছিল এক কিশোরীকে। অভিযোগ—পছন্দের মানুষকে বিয়ে করাই ছিল তার ‘অপরাধ’।
জানা গেছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা-এর এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে প্রায় তিন মাস আগে বাড়ি ছেড়েছিল ওই কিশোরী। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর চার মাস। পরিবারের অসম্মতিতে মৌলভী ডেকে তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। পরিকল্পনা ছিল—১৮ বছর পূর্ণ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে নিবন্ধন করা হবে। এরই মধ্যে তিন মাস তারা একসঙ্গে সংসারও করেন।
ঘটনার মোড় নেয় গত ১৫ এপ্রিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়েটি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কিশোরীকে বাবার বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরই বদলে যায় পরিস্থিতি।
স্বামীর পরিবারের অভিযোগ, বাবার বাড়িতে যাওয়ার দুইদিন পর স্বামীর কাছে ফিরতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে লোহার শিকলে বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার তারাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন মেয়েটির শ্বশুর। পরদিন বিকেলে থানা-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘরের ভেতর থেকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা দাবি করেন, যে ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে হয়েছে সে ভালো নয়। আইনগতভাবে বিয়ে বৈধ নয় এবং মেয়ের বয়স এখনও ১৮ বছর হয়নি। বোঝাতে না পেরে শাসনের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল—এমন বক্তব্যও দেন তিনি।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে সমাজসেবা দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, বয়স ১৮ পূর্ণ না হওয়ায় তাকে আপাতত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হবে।
প্রশ্ন উঠছে—আইনি বয়সের বাধা মানতে গিয়ে কি একজন কিশোরীকে শিকলে বেঁধে রাখা যায়? পরিবার, সমাজ ও আইনের এই সংঘাতের দায় নেবে কে?
