পুলিশ প্রশাসনে আবারও বড় ধরনের রদবদল আনল সরকার। একসঙ্গে আরও ১৬ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে, যা প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার আওতায় জনস্বার্থে অবসর দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২২ এপ্রিলও একই ধরনের পদক্ষেপে ১১ জন ডিআইজি ও ২ জন অতিরিক্ত ডিআইজিকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ধারাবাহিক এই সিদ্ধান্তে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
. এবার যাদের অবসর
অবসরে পাঠানোদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
. এন্টি টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ
. হাইওয়ে পুলিশের ইমতিয়াজ আহমেদ
সিআইডির হাবিবুর রহমান
. পুলিশ সদর দপ্তরের সালেহ মোহাম্মদ তানভীর
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পরিচালক হারুন-অর রশীদ
. পুলিশ স্টাফ কলেজের এস এম আখতারুজ্জামান
. নোয়াখালী ও খুলনা পিটিসির কমান্ড্যান্ট হায়দার আলী খান ও মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া
. ট্যুরিস্ট পুলিশের মো. রুহুল আমিন
. নৌ পুলিশের মিজানুর রহমান
. রংপুরের পুলিশ কমিশনার (সিআইডিতে বদলির আদেশপ্রাপ্ত) মো. মজিদ আলী
. রেলওয়ে পুলিশের গোলাম রউফ খান
. রংপুর পিটিসির শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার
. হাইওয়ে পুলিশের রখফার সুলতানা খানম
. এছাড়াও অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে অবসরে পাঠানো হয়েছেন ফারহাত আহমেদ।
. আগের ধাপেও একই চিত্র
২২ এপ্রিলের সিদ্ধান্তে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন পুলিশ স্টাফ কলেজ, এন্টি টেররিজম ইউনিট, নৌ পুলিশ, এপিবিএন ও শিল্পাঞ্চল পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা।
কী ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সিদ্ধান্ত?
টানা দুই দফায় উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসর প্রশাসনের ভেতরে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের আভাস দিচ্ছে। জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করা হলেও, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা।
সামনের দিনগুলোতে পুলিশ প্রশাসনে আরও পরিবর্তন আসতে পারে—এমন ধারণাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
