রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাবিতে নিয়োগ নিয়ে তুমুল বিতর্ক: মেধা উপেক্ষা, স্বজনপ্রীতি ও ‘জামায়াতীকরণ’-এর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ৩, ২০২৬ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি: সমকাল থেকে নেওয়া

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্‌ হাসান নকীবের প্রায় দেড় বছরের দায়িত্বকালজুড়ে এসব নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

মেধাতালিকায় দ্বিতীয়, তবু নিয়োগ পাননি-রাবির উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী এ সালামকে নিয়োগ না দেওয়া।

তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন এবং দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় দ্বিতীয় হলেও তাকে বাদ দিয়ে প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানধারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল চূড়ান্ত ফলাফলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তবুও সিন্ডিকেট সেই নিয়োগ অনুমোদন করে।

৫৫৭ দিনে ৪৭৮ নিয়োগ, নজিরবিহীন তৎপরতা
অধ্যাপক নকীবের দায়িত্বকালে ১৫টি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে অন্তত ৪৭৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে—
.১৫৪ জন শিক্ষক
.৬ জন চিকিৎসক
.৩ জন কর্মকর্তা
.৩১৫ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এত স্বল্প সময়ে এত নিয়োগের নজির নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগ-নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আত্মীয়করণ নিয়ে রয়েছে একাধিক অভিযোগ।
নিজের শ্বশুরকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রভাবশালী শিক্ষকের স্ত্রীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ। ডিনের ভাইকে সুযোগ দিতে নিয়োগের শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ। এসব ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এদিকে এক পদের বিপরীতে ১০ জন নিয়োগের চেষ্টা-
ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিভাগে একটি শূন্য পদের বিপরীতে ১০ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই নতুন পদ সৃষ্টি করে নিয়োগের চেষ্টা করা হয়, যা পরে সমালোচনার মুখে স্থগিত হয়।

নীতিমালা বদলে ‘পছন্দের প্রার্থী’কে সুযোগ-
চারুকলা অনুষদের এক নিয়োগে দুই বছরের মাস্টার্স ডিগ্রির শর্ত যুক্ত করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সুবিধা দিতেই এ পরিবর্তন আনা হয়।

অ্যাডহক নিয়োগে প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত-
এইচএসসি পাস সনদ দিয়ে প্রথম শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগ। বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কর্মকর্তা নিয়োগ, সনদ যাচাই ছাড়া নিয়োগ দিয়ে পরে বাতিল। এসব বিতর্কিত ঘটনায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আবার চিকিৎসক নিয়োগেও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন চিকিৎসককে ‘জামায়াতপন্থি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দ্রুত নিয়োগ দেওয়ায় বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়েছে।

নাট্যকলায় নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠে। একটি ফোনালাপের অডিও ফাঁস হলে তা ফরেনসিক পরীক্ষায় সত্য বলে প্রমাণিত হয়।
তবুও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
দলীয় প্রাধান্যের অভিযোগ- তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৩১৫ কর্মচারী নিয়োগে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে ‘জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অনেকে।
শিক্ষক ও ছাত্রনেতাদের প্রতিক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা এসেছে—
নিয়োগে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে। নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রার্থীদের বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ভবনকে “নিয়োগের কারখানা” হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য জানা গেছে, সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্‌ হাসান নকীব বলেন, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম স্বীকার করেন, কিছু নিয়োগে নিয়মনীতি মানা হয়নি এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিয়োগ বিতর্ক এখন শুধু প্রশাসনিক ইস্যু নয়, বরং মেধা, স্বচ্ছতা ও উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

তদন্ত ও জবাবদিহির মাধ্যমে এর সুরাহা না হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।