সোমবার, ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনে আসছে পরামর্শক কমিটি, ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ভাবনা সামনে আনলেন তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
মে ৩, ২০২৬ ১১:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনায় বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: পিআইডি

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনের পরিবেশটা ছিল ব্যতিক্রমী—মুক্ত গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার এক মিশ্র আবহ। আর সেখানেই নতুন এক বার্তা দিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন—গণমাধ্যম খাতকে নতুন কাঠামোয় আনতে শিগগিরই গঠন করা হচ্ছে একটি পরামর্শক কমিটি।

রোববার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন,
“সময়ের দাবি একটি স্বাধীন, কার্যকর ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন। আর সেটির ভিত্তি তৈরি করবে এই পরামর্শক কমিটি।”

গ্রহণযোগ্যতার উপর জোর-মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন—এটি হবে তড়িঘড়ি কোনো উদ্যোগ নয়। বরং সকল অংশীজনের মতামত নিয়ে ধীরে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে এগোতে চায় সরকার। তার ভাষায়, সময় লাগলেও সমস্যা নেই, তবে কাঠামোটা হতে হবে এমন—যা সবাই মেনে নেয়। সেখান থেকেই জন্ম নেবে একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন।

কেন প্রয়োজন স্বাধীন কমিশন?
সরকার নিজেই যখন একটি পক্ষ, তখন নিরপেক্ষ ‘অভিভাবক’ হওয়া কঠিন—এ বাস্তবতাই সামনে এনে মন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন কমিশনই পারে আস্থা তৈরি করতে এবং গণমাধ্যমকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে।

ডিজিটাল যুগের কঠিন চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয়—ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
মন্ত্রী তুলে ধরেন এক জটিল বাস্তবতা: টেক জায়ান্টদের কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন প্রভাব। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর সীমিত ক্ষমতা। পুরনো কাঠামো দিয়ে নতুন সমস্যার সমাধানের চেষ্টা তিনি বলেন,
“সমস্যা ডিজিটাল, কিন্তু সমাধানের কাঠামো এখনো অনেকটাই সেকেলে।

টিআরপি ও সার্কুলেশন নিয়ে প্রশ্ন-গণমাধ্যমের প্রভাব মাপার পদ্ধতিও ছাড় পাননি সমালোচনা থেকে।
মন্ত্রী সরাসরি বলেন—অল্প কয়েকটি ডিভাইস দিয়ে টেলিভিশনের টিআরপি নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়
পত্রিকার সার্কুলেশন নিয়েও রয়েছে অস্বচ্ছতা। এগুলোকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” আখ্যা দেন।

আলোচনায় উঠে এলো আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক।আস্থার সংকটে মূলধারার গণমাধ্যম-মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সামাজিক মাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে, ফলে মূলধারার মিডিয়া নতুন চাপে পড়ছে।
এতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ছে।

অংশীজনদের সম্পৃক্ততার আহ্বানে নূরুল কবীর জোর দেন—কার্যকর কাঠামো গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

স্বাধীনতা এখনো পূর্ণ নয়- শামসুল হক জাহিদ মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি আরও জানান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের ২১২ দফা সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি—যা হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারত।

গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে হাসান হাফিজ বলেন,
গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইন-শৃঙ্খলার জন্য মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য।
সামনে কী?
তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট—
সরকার এখন আর এককভাবে নয়, বরং সমন্বিত উদ্যোগে গণমাধ্যম খাতের সংস্কার করতে চায়।
বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন ও নীতিমালা তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, এটি শুধু একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা নয়—বরং বাংলাদেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।