গ্রেপ্তার আরমান হোসেন (মাঝে)
দেশের নাগরিকদের সংবেদনশীল কল ডিটেইলস, এনআইডি ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য গোপনে বিক্রির ভয়ংকর অভিযোগে এক অ্যাপ ডেভেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এদিকে গ্রেপ্তার আরমান হোসেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে সিআইডি।
বৃহস্পতিবার সিআইডির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত তদন্তে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে।
সিআইডি জানায়, গত বছরের ৯ অক্টোবর সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিয়াম হাওলাদার নামের একটি ফেসবুক আইডিতে এনআইডির পূর্ণাঙ্গ তথ্য, এসএমএস তালিকা, বিকাশ-রকেট-নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক হিসাব এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন নজরে আসে।
বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।
তদন্তের একপর্যায়ে ১৩ অক্টোবর কমলনগর থেকে সিয়াম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। তার ব্যবহৃত ফোনে ‘সব এখানে’ নামের একটি অ্যাপের সন্ধান পায় তদন্তকারীরা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম স্বীকার করেন, ওই অ্যাপ ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো।
সিআইডি আরও জানায়, এ ঘটনায় ১৪ অক্টোবর পল্টন মডেল থানা-এ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা করেন সিআইডির এসআই মেহেদী হাসান। পরে সিয়ামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ অক্টোবর কয়রা থেকে চক্রের অন্যতম অ্যাডমিন আল আমিন-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আল আমিন জানান, পুরো সিস্টেম ও অ্যাপটি তৈরি করেছেন একজন দক্ষ প্রোগ্রামার। সেই সূত্র ধরেই গত ৫ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার মানিকদিতে অভিযান চালিয়ে আরমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এ সময় তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, ছয়টি সিমকার্ড ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, আরমান ‘sobakhane.xyz’, ‘sobakhane.online’ ও ‘sobakhane.info’ নামে একাধিক ওয়েবসাইট তৈরি করেন। পরে ‘সব এখানে’ নামে অ্যাপ তৈরি করে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের সহায়তায় নাগরিকদের এনআইডি তথ্য, এসএমএস তালিকা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংক হিসাবের তথ্যসহ নানা গোপনীয় তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতেন।
সিআইডি বলছে, এসব তথ্য জাতীয় গোপনীয় ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হতো এবং পুরো কার্যক্রমের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। তদন্তে আসামিদের হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগের তথ্যও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তার আরমান হোসেনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিক তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
