শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের আগুন, হাঁসফাঁস নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবন

স্টাফ রিপোর্টার
মে ৮, ২০২৬ ৯:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর বাজার যেন এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক দুঃস্বপ্নের নাম। প্রতিদিনই বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, আর সেই চাপ সরাসরি এসে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। সবজি থেকে ডিম, মুরগি থেকে মসলা—সবখানেই ঊর্ধ্বগতির ঝড়। বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম এখন ৮০ টাকার ওপরে। কিছু সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে। সাধারণ মানুষের কাছে যেন সবজি এখন বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, কাঁকরোল ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা, হাইব্রিড শসা ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ধুন্দল ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ টাকা, লাউ ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, পেঁপে ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খিলক্ষেত বাজারে কেনাকাটা করতে আসা জগন্নাথ ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, এখন বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। কয়েকদিন আগেও পেঁপে কম দামের ছিল, এখন সেটাও ৮০ টাকা। করলা, শসা, বেগুন, কাঁকরোল সবই ১২০ টাকা। সাধারণ মানুষ এত দাম দিয়ে বাজার করবে কীভাবে?”

বিক্রেতারাও বলছেন, সরবরাহ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই দাম বাড়ছে। সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, গ্রাম থেকে ঠিকমতো সবজি আসছে না। পরিবহন খরচও অনেক বেড়েছে। পাইকারিতেই দাম বেশি, তাই খুচরায়ও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
শুধু সবজি নয়, অস্থির হয়ে উঠেছে ডিমের বাজারও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায়।

ডিম বিক্রেতা রাশেদ বলেন, বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। পাইকারিতেই দাম বেশি, তাই বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করছি। মুরগির বাজারেও বেড়েছে দামের চাপ। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি মুরগির দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ৩৭০ টাকায়।

তবে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের বাজার। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে চিনির বাজারেও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। খোলা আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। বর্তমানে খোলা আটা ৫৫ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। কেজিতে প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এলাচের দাম। বর্তমানে এলাচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ৪০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। আর এই মূল্যচাপের ভার বইতে গিয়ে প্রতিদিনই আরও সংকটে পড়ছে সাধারণ মানুষের

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।