সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজারে জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে টানা তিনদিনের উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় ভয়াবহ সংঘর্ষে। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আহত হয়েছেন সুনামগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলসহ অর্ধশতাধিক মানুষ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের জাউয়াবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের জেরে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং শতশত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরে শান্তিগঞ্জ সেনাক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাউয়াবাজার সংলগ্ন খিদ্রাখাপন গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আফরোজ মিয়ার কাছ থেকে প্রায় এক বছর আগে কিছু জমি কিনেছিলেন কোনাপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার সেই বিরোধই ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ ফেরার পথে মহাসড়কে আটকা পড়েন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যান এবং উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময় ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন তিনি। পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষ বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়েও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ছাতক থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আহত সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, সিলেট থেকে ফেরার পথে সংঘর্ষ দেখতে পাই। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে হাতে ও পায়ে আঘাত পেয়েছি।
