বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদুল আজহা সামনে অনলাইনে জমজমাট কোরবানির সরঞ্জামের বাজার, কারওয়ান বাজারে ক্রেতার ভিড় আগের মতো নেই

স্টাফ রিপোর্টার
মে ২৬, ২০২৬ ১১:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঈদুল আজহা এলেই রাজধানীর কারওয়ান বাজার যেন রূপ নেয় আগুন, লোহা আর হাতুড়ির এক ব্যস্ত কর্মশালায়। আগুনে তপ্ত লোহায় হাতুড়ির ঘা, কামারদের ঘামে ঝলসে ওঠা ছুরি-চাপাতি আর কোরবানির প্রস্তুতিতে মানুষের আনাগোনায় জমে ওঠে পুরো এলাকা। কিন্তু এবার সেই চেনা দৃশ্য যেন কিছুটা বদলে গেছে।

মঙ্গলবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানজুড়ে সাজানো ছুরি, চাপাতি, দা ও বটি হাতে নিয়ে কেউ ওজন মাপছেন, কেউ ধার পরীক্ষা করছেন, আবার কেউ দামাদামিতে ব্যস্ত। তবু ব্যবসায়ীদের চোখে স্পষ্ট হতাশা—আগের বছরের মতো নেই ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, এবার কোরবানির সরঞ্জামের বড় একটি বাজার চলে গেছে অনলাইনে। ঘরে বসেই মানুষ ফেসবুক পেইজ আর অনলাইন স্টোর ঘেঁটে অর্ডার দিচ্ছেন ছুরি-চাপাতি। ফলে কারওয়ান বাজারের ঐতিহ্যবাহী দোকানগুলোতে বিক্রি কমে গেছে অনেকটাই।

দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী ছলিম আলী আক্ষেপ করে বলেন, আমরা দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল আর ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করি। অথচ অনেক অনলাইন পেইজ নিজেদের কারখানার মালিক পরিচয় দিয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করছে। এতে আমাদের ব্যবসা মার খাচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে গরু জবাইয়ের ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকায়। চাপাতির কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বটির দাম ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ছোট মাংস কাটার ছুরি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোলা হার্ডওয়্যার–এর বিক্রেতা খায়রুল বাশার বলেন, আগে ঈদের আগে দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকত না। এখন অনলাইন পেইজগুলো সুন্দর ছবি আর অফার দিয়ে ক্রেতাদের টেনে নিচ্ছে। মানুষ বাজারে কম আসছে।

তবে সব দোকানের চিত্র এক নয়। মা জননী দোকানে ঈদ ঘনানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বিক্রি। দোকানের বিক্রেতা আসলাম উদ্দিন জানান, আমরা দোকানে বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনেও অর্ডার নিচ্ছি। এখন অনলাইন থেকেই বেশি বিক্রি হচ্ছে। যানজট পেরিয়ে অনেকেই বাজারে আসতে চান না।

এদিকে বাড়তি দামে কিছুটা বিরক্ত ক্রেতারাও। মালিবাগ থেকে আসা মো. আতিক বলেন, গরুর দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি কোরবানির সরঞ্জামের দামও আগের চেয়ে বেশি। সব মিলিয়ে খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

একই অভিযোগ করেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা হাকিম মিয়া। তার ভাষায়, বাজারে যে চাপাতি ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অনলাইনে সেটাই ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আবার ফ্রি ডেলিভারিও দিচ্ছে। তাই অনেকে অনলাইনের দিকেই ঝুঁকছেন।

এবার অনলাইনে জয় স্টিল, হ্যারিকেন মার্ট, সাইফুল এক্সপ্রেস লিমিটেড এবং গ্যাজেট এন্ড ইলেক্ট্রো বিডি–সহ বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে কোরবানির সরঞ্জাম বিক্রি হচ্ছে দাপটের সঙ্গে। অনলাইন বিক্রেতা মো. রাসেল ও সুজন মিয়া জানান, এখন ক্রেতারা রিভিউ দেখে ঘরে বসেই অর্ডার করছেন। অনেকের কাছে ছুরি-চাপাতি বহন করাও ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়, তাই অনলাইন কেনাকাটাই হয়ে উঠছে সহজ সমাধান।

ব্যবসায়ীদের মতে, লোহা, কয়লা ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার ছুরি-চাপাতির দাম কিছুটা বাড়তি। তবুও ঈদকে ঘিরে চলছে প্রস্তুতি—শুধু বদলে গেছে কেনাকাটার ধরন। আগুনে গড়া ধারালো অস্ত্রের বাজার এখন ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে ডিজিটাল পর্দার ভেতরেও।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।