শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকা দক্ষিণের ২৭ ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর ‘রেড অ্যালার্ট’, এডিসের ঘনত্বে চরম উদ্বেগ

তাবাসসুম স্নেহা
জুন ৫, ২০২৬ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

এডিসের দখলে রাজধানী! দক্ষিণের ৬৩ ওয়ার্ডে বিপদসীমার ওপরে মশার ঘনত্ব। ফাইল ছবি

রাজধানীতে বর্ষা আসার আগেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জীবাণুবাহী এডিস মশা নিয়ে পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে আগামী রোববার থেকে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ডিএসসিসি।

গতকাল বৃহস্পতিবার নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের তথ্য তুলে ধরেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

১১ দিনে ২ হাজার ২৫০ বাড়িতে জরিপ

ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ সদস্যের একটি দল গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে জরিপ পরিচালনা করে। আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপে দেখা যায়, পরিদর্শন করা বাড়িগুলোর মধ্যে ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি লার্ভা শনাক্ত হয়েছে—

বহুতল ভবনে ৩৫.২৩ শতাংশ

স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭.৭৬ শতাংশ

নির্মাণাধীন ভবনে ১৭.৪৪ শতাংশ

সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯ শতাংশ

কোথায় বেশি জন্ম নিচ্ছে এডিস?

জরিপে উঠে এসেছে, মানুষের অসচেতনতা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশই এডিসের বিস্তারের অন্যতম কারণ।

প্রজননস্থল হিসেবে পাওয়া গেছে—

মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২.২৬ শতাংশ

বালতিতে ১০.৩৪ শতাংশ

প্লাস্টিকের ড্রামে ৮.৮৯ শতাংশ

এসব স্থানকেই ডেঙ্গু বিস্তারের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২৭ ওয়ার্ডে চরম ঝুঁকি

ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের ২৭টি ওয়ার্ডকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

চরম ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো—

অঞ্চল-১ (ধানমন্ডি-নিউমার্কেট-শাহবাগ): ১৫, ১৭, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড।

অঞ্চল-২ (খিলগাঁও-মতিঝিল-সবুজবাগ): ২, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ড।

অঞ্চল-৩ (হাজারীবাগ-লালবাগ-চকবাজার): ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৮, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড।

অঞ্চল-৪ (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি): ৩২, ৩৬ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড।

অঞ্চল-৫ (যাত্রাবাড়ী-ওয়ারী): ৭ ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ড।

অঞ্চল-৭ (মুগদা-মাণ্ডা): ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড।

অঞ্চল-৮ (ডেমরা-সারুলিয়া): ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড।

অঞ্চল-৯ (দনিয়া-মাতুয়াইল-কোনাপাড়া): ৬২ নম্বর ওয়ার্ড।

মাঝারি ও সাধারণ ঝুঁকির এলাকাও কম নয়

জরিপে ৩৬টি ওয়ার্ডকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১২টি ওয়ার্ডকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে অঞ্চল-৭ ও অঞ্চল-১০-এ কোনো সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড পাওয়া যায়নি।

সচেতনতায় নামছে ডিএসসিসি-

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে আগামী শনিবার ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হবে। পরে নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের কর্মসূচি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, “শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা এবং প্রতি তিন দিন অন্তর জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

গণমাধ্যমের প্রতি সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।