মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন আজ শুরু, পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও মানবিক সংকট ইস্যুতে গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
জুন ৮, ২০২৬ ২:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বেশ কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুদের বাংলাদেশে পুশইনের (ঠেলে পাঠানো) চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে প্রবেশ করতে পারেননি তারা। কয়েকটি সীমান্তে অনেকে এখনও শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

সীমান্তের এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ সোমবার দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হবে। এবারের বৈঠকে পুশইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তুলবে বাংলাদেশ।

গতকাল রোববার ঢাকায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং বিশেষ করে অবৈধ পুশইনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে। বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক নিয়মিতভাবে একবার বাংলাদেশে এবং পরেরবার ভারতে অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। সরকার সব ধরনের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। তবে এসব সমস্যা প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ চলমান রয়েছে এবং আসন্ন বৈঠকেও এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বৈঠকের আলোচনায় যেসব বিষয়

বিজিবি সূত্র জানায়, এবারের সম্মেলনে বিএসএফ, ভারতীয় নাগরিক বা দুষ্কৃতকারীদের হাতে সীমান্ত হত্যা এবং পুশইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধ, মানব পাচার দমন এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অন্যান্য অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নিষ্পত্তি, তিন বিঘা করিডোর দিয়ে পাটগ্রাম থেকে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন, আগরতলা থেকে আখাউড়াগামী চারটি খালের বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের জন্য প্লান্ট স্থাপন, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে।

আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা কার্যকর বাস্তবায়ন এবং আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন বা হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধের বিষয়ও এজেন্ডায় রয়েছে।

এ ছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার বন্ধ এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বন্দুকের মুখে নারী-শিশুদের পুশইনের অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বিএসএফ বাংলাদেশি সন্দেহে অনেক মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। এ ঘটনায় সংগঠনটি আগামী ১১ জুন মাল মালদা শহরে প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর।

এপিডিআরের অভিযোগ, বিএসএফ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়ছেন।

সংগঠনটির দাবি, নোম্যান্স ল্যান্ডে আটকে থাকা মানুষের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুও রয়েছেন। খাবার, পানি ও আশ্রয়ের অভাবে তারা চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিএসএফ তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করছে, অন্যদিকে বিজিবি বলছে, তারা বাংলাদেশি—এমন কোনো প্রমাণ নেই। ফলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যবর্তী এলাকায় মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।

এপিডিআর বলেছে, ভারতের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতিই বর্তমান সংকটের মূল উৎস। সংগঠনটি অবিলম্বে পুশব্যাক নীতি বন্ধ এবং শূন্যরেখায় আটকে থাকা মানুষদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের নজরে আনার কথাও জানিয়েছে তারা।

জাতিসংঘ ও আইওএমের হস্তক্ষেপ কামনা

পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের ঠেলে দেওয়া নারী-শিশুসহ ১০ জনের ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে থাকার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয় নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, অবৈধ পুশইনের এই অমানবিক প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিচয় ও দায় নির্ধারণের আগেই আটকে থাকা মানুষদের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি আশ্রয় এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।