বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুনামগঞ্জে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্পে ‘একচ্ছত্র আধিপত্য’ গ্রীন কন্সট্রাকশনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
জুন ৩০, ২০২৬ ১:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সুনামগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো, নিম্নমানের কাজ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে গ্রীন কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী উজ্জল মিয়া।

স্থানীয় ঠিকাদার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের একাধিক সূত্র এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জেলার একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন উজ্জল মিয়া। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনিয়মের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সরকারি কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কাগজে-কলমে উন্মুক্ত দরপত্রের ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের ভাষ্য, দরপত্রে অংশ নিতে গেলেই নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত বা ‘ম্যানেজড টেন্ডার’-এর মাধ্যমে গ্রীন কন্সট্রাকশনকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক সূত্র আরও জানায়, বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পন্ন দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ফলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানির লাইন স্থাপন, গভীর ও অগভীর নলকূপ বসানো, পাইপলাইন নির্মাণ এবং স্যানিটেশন প্রকল্পের বহু কাজ নিম্নমানের হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ছে। এতে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অনেক প্রকল্পে কাগজে কাজ শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও কোথাও অসম্পূর্ণ কাজও সম্পন্ন হিসেবে দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও একটি প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতায় বছরের পর বছর ধরে এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সচেতন নাগরিকরা বিষয়টির নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান চালালে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, সরকারি অর্থ অপচয় এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।

তবে উল্লেখ্য, উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে গ্রীন কন্সট্রাকশন বা এর স্বত্বাধিকারী উজ্জল মিয়ার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।