সঙ্গী খুঁজে পেতে কঠিন অভিজ্ঞতার পর মন্দিরের এই আয়োজনে অংশ নেন তারা। ছবি: বিবিসি
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিয়ে ও সন্তান জন্মদানের হার দীর্ঘদিন ধরে কমছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির একটি বৌদ্ধ মন্দির। তরুণ-তরুণীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ পরিচিতি ও পাত্র-পাত্রী খোঁজার অনুষ্ঠান।
দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পালগংসান পর্বতে অষ্টম শতকের ডংহওয়াসা মন্দিরে ৩০ ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পরিচিতি পর্ব, একান্তে কথা বলার সুযোগ, দলীয় কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ‘স্পিড ডেটিং’-এর মতো আয়োজন রাখা হয়। আয়োজক ইউ চিওল-জু বলেন, অতীতে জাতীয় সংকটে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখন দেশের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো কমে যাওয়া জন্মহার। তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২৩ সালে একজন নারীর গড়ে সন্তান জন্মদানের হার নেমে আসে ০ দশমিক ৭২-এ। তবে দেশটিতে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে গড় জন্মহার প্রয়োজন ২ দশমিক একের একটু কম।
১ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা দিনের কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায়। ছবি-বিবিসি
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ আবাসন ব্যয়, সন্তান লালন-পালনের খরচ, কর্মজীবনের চাপ এবং বদলে যাওয়া সামাজিক মূল্যবোধের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে আগের তুলনায় সামাজিক মেলামেশা ও নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগও কমে গেছে।
মন্দিরের ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন এক হাজার ৬০০ জন। সেখান থেকে প্রশ্নপত্র ও ভিডিও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ২৪ জনকে নির্বাচন করা হয়। ধর্মীয় পরিচয় এখানে কোনো বাধা ছিল না; বিয়ে ও পরিবার গঠনে আগ্রহী হলেই আবেদন করা গেছে।
অংশগ্রহণকারী ২৮ বছর বয়সী কিম আহ-কিয়ং বলেন, চাকরির কারণে রাজধানী সিউল ছেড়ে অন্য এলাকায় যাওয়ার পর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। কর্মস্থলেও সহকর্মীদের বেশির ভাগ বয়সে অনেক বড়।
আরেক অংশগ্রহণকারী ৩০ বছর বয়সী কওন সেউং-ওহ জানান, অনলাইনে পরিচয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়তে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। বন্ধুদের মাধ্যমে কয়েকবার পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। তাই এবার মন্দিরের এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।
অনুষ্ঠানজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা একে অন্যের সঙ্গে কথা বলেন, একসঙ্গে খাবার খান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন এবং বিভিন্ন পর্বে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন। শেষ দিনে সবাই মোবাইল ফোনে নিজেদের পছন্দের সঙ্গীর নাম পাঠান।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত আটটি জুটি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে দুটি জুটি অনুষ্ঠানের কর্মী ও অংশগ্রহণকারীর মধ্যে। তবে যাদের কারও সঙ্গে জুটি হয়নি, তারাও অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেকেই নতুন বন্ধু পেয়েছেন, যোগাযোগ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে আবারও এমন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার বাড়াতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আসছে। নতুন দম্পতিদের জন্য আবাসন সুবিধা, সন্তান জন্মে আর্থিক সহায়তা এবং দীর্ঘ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন পাত্র-পাত্রী পরিচিতি কর্মসূচির আয়োজন করছে।
প্রতিভা প্রদর্শনের আয়োজনে গান, নাচ ও বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনায় অংশ নেন তরুণ-তরুণীরা। ছবি-বিবিসি
যদিও এসব উদ্যোগ জন্মহার বৃদ্ধিতে কতটা কার্যকর, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, কয়েক বছর আগের তুলনায় দেশটিতে অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার প্রতি আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে।
